ভারতীয় ছিটমহল থেকে কেউ বাংলাদেশে আসতে চাচ্ছেন না

ছিটমহল

ক্রাইম নিউজ সার্ভিসঃ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলের ৭৭৯ জন বাসিন্দা ভারতে যেতে আগ্রহী, তবে ভারত থেকে কেউ বাংলাদেশে আসতে চাচ্ছেন না। সোমবার ভারতের কুচবিহারে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের সমন্বয় বৈঠক থেকে ফিরে এ তথ্য জানিয়েছেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরে ঐতিহাসিক স্থল সীমান্ত চুক্তির দলিল বিনিময়ের পর ছিটমহল বিনিময়ে ১০ দিন (গত ৬ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই) জনগণনা চলে। আনুষ্ঠানিক জনগণনা শেষে সোমবার বিকাল থেকে চার ঘণ্টার এক সমন্বয় বৈঠক হয় কুচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধায়। যেখানে বাংলাদেশের চারজন ও ভারতের ছয়জন প্রতিনিধি অংশ নেয়।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার এবং ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশি ৫১টি ছিটমহলের জনসংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার।

হাবিবুর রহমান বলেন, এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৭৭৯ জন ভারতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশি ৫১টি ছিটমহলের কেউ বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেনি।

ভারতে যেতে আগ্রহীরা আগামী ১ অগাস্ট থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতে যেতে পারবে, তবে কোন সীমান্ত দিয়ে তারা ভারতে যাবে তা চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান হাবিবুর।

এর আগে জানানো হয়েছিল, পছন্দ অনুযায়ী কারও মূল ভূখণ্ড পরিবর্তন হলে উভয় দেশে যাতায়াতের জন্য তাদের প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পাস ইস্যু করবে সরকার। চিলাহাটি-হলদিবাড়ী, বুড়িমারী-চেংরাবান্ধা, বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি চেক পয়েন্ট দিয়ে পছন্দানুযায়ী মূল ভূখণ্ডে যেতে পারবেন ছিটমহলবাসীরা।

আগামী ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে দুই দেশের ছিটমহল বিনিময়ের ঘোষণা রয়েছে, যার মধ্য দিয়ে বহু বছরের সমস্যার সমাধান ঘটতে যাচ্ছে। দুই দেশের চুক্তি ও প্রটোকল অনুযায়ী, ছিটমহলবাসী নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী নাগরিকত্ব বেছে নিতে পারবেন। যারা ভারতীয় নাগরিকত্ব বহাল রেখে সে দেশের মূল ভূখণ্ডে চলে যেতে চান তাদের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পছন্দের দেশে যাওয়ার সময় টাকা-পয়সাসহ অস্থাবর সম্পত্তি সঙ্গে নেওয়া যাবে। আর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে পছন্দের দেশের মূল ভূখণ্ডে যেতে হবে।

কোনো ব্যক্তি যদি ৩০ নভেম্বরের আগে স্থাবর সম্পত্তি রেখে ভারতে বা বাংলাদেশে যেতে চাইলে সম্পত্তির দলিলের কপি (যদি থাকে) স্থানীয় জেলা প্রশাসনের হেফাজতে রাখতে পারবেন; পরে সম্পত্তি বিক্রির সময় জেলা প্রশাসনের সহায়তা পাবেন তারা।

চুক্তি কার্যকরের মধ্য দিয়ে ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অংশ হয়ে যাবে, বাংলাদেশের ৫১টি মিশে যাবে ভারতের সঙ্গে।

বাংলাদেশের মধ্যে থাকা ছিটহলগুলোর মধ্যে লালমনিরহাট জেলায় ৫৯টি, পঞ্চগড় জেলায় ৩৬টি, কুড়িগ্রাম জেলায় ১২টি, নীলফামারী জেলায় ৪টি ছিটমহল রয়েছে, যেগুলো এখন বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের অংশ হবে।

ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের আয়তন মোট ৭ হাজার ১১০ একর; অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহলের আয়তন ১৭ হাজার ১৬০ একর।

উত্তরাধিকার সূত্রে ভারতের স্থল সীমান্ত নিয়ে এই সমস্যাটি পেয়েছিল বাংলাদেশ। অবিভক্ত ভারতের অংশ থেকে পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই সমস্যার অবসানে ১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি হয়।

এর আওতায় ছিটমহল বিনিময়ে বাংলাদেশের দিক থেকে সব প্রক্রিয়া সারা হয়েছিল, কিন্তু ভারতের সংবিধান সংশোধন ঝুলে থাকায় আটকে ছিল চুক্তি কার্যকর।

এর মধ্যে ২০১১ সালে ভারতে তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় স্থল সীমান্ত সমস্যার সমাধানে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রটোকল সই হয়। এরপর কংগ্রেস সরকার সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিলেও তার মধ্যেই নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদল হয়ে যায়। ক্ষমতায় আসে বিজেপি, প্রধানমন্ত্রী হন নরেন্দ্র মোদী।

তবে কংগ্রেস সরকারের সেই উদ্যোগকে সফল করতে আরও সচেষ্ট হন নরেন্দ্র মোদী। ছিটমহল বিনিময়ে আপত্তি জানানো আঞ্চলিক দলগুলোকে মানান তিনি।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভূমি বিনিময়ে গত মে মাসে ভারতের পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধনের বিল পাস হওয়ার পর গত মাসের শুরুতে ঢাকা সফরে আসেন মোদী। তখনই দুই দেশের চুক্তি অনুসমর্থনের দলিল বিনিময় হয়।

Please follow and like us:
0

Related posts

Leave a Comment