জেএমবির দক্ষিণাঞ্চল প্রধান তরিকুল গ্রেফতার

জেএমবির দক্ষিণাঞ্চল প্রধান তরিকুল ইসলাম ওরফ তারেক ওরফে বাপ্পী ওরফে সাকিব ওরফে নাজমুস সাকিবকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। তার কাছ থেকে উগ্রবাদী বই, লিফলেট, প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (২৯ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ নগরীর ১নম্বর লঞ্চঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার (৩০ মার্চ) দুপুরে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল কাজী শামশের উদ্দিন র‌্যাব-১১ এর প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নাজমুস সাকিব ২০১৩ সালে এমবিএতে পড়ার সময় জসিম উদ্দিন রাহমানির বছিলা মসজিদে বয়ান শুনতে যেত। জসিম উদ্দিন রহমানির বয়ানের মাধ্যমে তার মাঝে উগ্রবাদী চেতনা জাগ্রত হয়। একই মসজিদে জেএমবি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। আব্দুল্লাহ আল মামুন তৎকালীন জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান ছিল। তার মাধ্যমে ২০১৩ সালে সাকিব জেএমবিতে যোগদান করে। ২০১৬ সালে বাগেরহাট জেলা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আব্দুল্লাহ আল মামুন নিহত হন। পরে তার স্থলে সাকিব দায়িত্ব পান। সাকিব দায়িত্ব পাওয়ার পর খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা, পিরোজপুর, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জেএমবির কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর তৎপরতা অব্যাহত রাখে। সাকিবের মাধ্যমে মাহবুবুর রহমান উকিল, কাইয়ুম হাওলাদার, কাউছার বিন হালিম, হামদান বিন ফিরোজ, মামদুদুর রহমান মিশু, কামরুল, ইউনুছসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৫০জন সদস্য জেএমবিতে যোগ দেয়। এদের অধিকাংশ সদস্যকে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করে।

র‌্যাব-১১ জানায়, নাজমুস সাকিব প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে প্রথম পর্যায়ে সে জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য ছিল। জামালপুরের যমুনা নদীর চর, আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাসার ছাদসহ বিভিন্ন জায়গায় জেএমবির অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। ২০১৭  সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা শুরু হলে সাকিব ঢাকায় এসে আত্মগোপন করে। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাটে কচুয়া থানায় একটি, ডিএমপি যাত্রাবাড়ী থানায় একটি, নরসিংদী সদর থানায় একটি, নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় পাঁচটিসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। মামলাগুলো সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা।

এই সংক্রান্ত আরো নিউজ

Leave a Comment