বিমানে পাচার হচ্ছে গাঁজা ও ইয়াবা ।। গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য

গত ছয় বছরে বিমানে পাচারের সময় গাঁজার যে কটি চালান আটক হয়েছে, তার সবগুলো যাচ্ছিল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

মঙ্গলবার ও সোমবার চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হয় গাঁজার দুটি চালান। এর একটির গন্তব্য ছিল ওমান এবং অন্যটির সংযুক্ত আরব আমিরাত।

২০১৪ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গাঁজার চারটি চালান আটকের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এর দুটি চালান যাচ্ছিল কুয়েতে, একটি কাতারে এবং অন্যটি ওমানে।

গাঁজার চালান যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ থেকে গত ১৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সভা করে চট্টগ্রাম সমিতি, ওমান।ওই বৈঠকে ওমানের বিমানবন্দরে গাঁজা ও ইয়াবাসহ বাংলাদেশি ধরা পড়ার বিষয়টি জানানো হয়। এতে ওমান প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোগান্তির কথাও সংশ্লিষ্টদের জানান সমিতির নেতৃবৃন্দ।

চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জহিরুল আলম মজুমদার বলেন, “চট্টগ্রাম সমিতি, ওমানের নেতারা বলেন, আয়ুর্বেদিক দাঁতের মাজনের প্রায় দুইশ কৌটায় ভরা গাঁজার চালান সেখানকার বিমানবন্দরে ধরা পড়ে।

“এরপর থেকে বাংলাদেশি যাত্রীদের ওই দেশের বিমানবন্দরে আলাদা করে রাখা হত এবং আলাদা তল্লাশি করা হয়। এতে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।”  

ওমানে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করেন।

ওমান প্রবাসীদের কাছে তথ্য পাওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রাম জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা হয়। এরপরই শাহ আমানতে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের তল্লাশি জোরদার করা হয়।

সোমবার শাহ আমানতে ধরা পড়া বিমানযাত্রী ওমান প্রবাসী মো. রুবেল। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা। তার দুটি তোষকের ভেতর ছিল ছয় কেজি গাঁজা।

মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হওয়া বিমানযাত্রী জমির উদ্দিন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বাসিন্দা। আবুধাবিগামী জমিরের কাছে ছিল ২০০ গ্রাম গাঁজা ও ৫৪০টি ইয়াবা।

২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ৫ কেজি গাঁজাসহ কুমিল্লার মো. হানিফ ধরা পড়েন ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে। তিনি কাতার যাচ্ছিলেন। ওই বছরের ১৩ মে ২ কেজি গাঁজাসহ কুয়েতগামী ইয়াসিন খান নামের এক যাত্রী ধরা পড়েন।

২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর শাহজালালে ২ কেজি গাঁজাসহ ধরা পড়েন কুয়েতগামী মো. হারুন, তিনি ফেনীর বাসিন্দা। ২০১৮ সালের ৪ জুলাই ১০ কেজি গাঁজাসহ কুমিল্লার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম গ্রেপ্তার হন। তিনি গাঁজা নিয়ে ওমান যাচ্ছিলেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শামীম বলেন, বাংলাদেশে গাঁজা চাষ আইনত নিষিদ্ধ হলেও ভারত সীমান্তের ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশ দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে।

“বাংলাদেশে কিছু গাঁজাসেবী আছে। তবে এটা ট্রানজিট কান্ট্রিও।”

চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জহিরুল আলম মজুমদার বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের কিছু কর্মী মাদকাসক্ত। কিন্তু সেখানে মাদক সংগ্রহ করা খুব কঠিন। তাই দেশ থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করে একটি চক্র।

“আবার এসব গাঁজা মধ্যপ্রাচ্য হয়ে পশ্চিমা দেশেও চলে যেতে পারে। চক্রের নেপথ্যের লোকরা ধরা পড়ে না বলে চক্র শনাক্ত করা যায় না।”

মাদক পাচারের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন জহিরুল।

ইতোপূর্বে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ধরা পড়া গাঁজার চালানের সঙ্গে বাহক গ্রেপ্তার হলেও পাচারকারী চক্রের সন্ধান মেলেনি। সোমবার গ্রেপ্তার রুবেলের বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেনি স্থানীয় পুলিশ।

পতেঙ্গা থানার ওসি উৎপল বড়ুয়ার কাছে রুবেলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, তবে তদন্তের স্বার্থে তা এখনই বলতে পারছি না।”

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামীম বলেন, “ঢাকা বিমানবন্দরে আমাদের আলাদা ইউনিট থাকলেও চট্টগ্রামে নেই। আলাদা ইউনিট এবং ডগ স্কোয়াড থাকলে গাঁজার মতো মাদক শনাক্ত করা সহজ হবে।”

বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সারওয়ার ই জাহান বলেন, “পাচারকারী যত কৌশলই নিক সফল হতে পারবে না। মাদক পাচারের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স আছে। আমাদের স্ক্যানিং মেশিনেও মাদক ধরা পড়ে।”

চট্টগ্রাম সমিতি, ওমানের সভাপতি ইয়াছিন চৌধুরী বলেন, বিমানবন্দরে কড়াকড়ি আরোপ হওয়ায় তারা আশাবাদী যে গাঁজার চালান আর আসবে না। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবে।

এই সংক্রান্ত আরো নিউজ

Leave a Comment