বিডিবিএলে ঋণ কেলেঙ্কারি, অনুসন্ধানে দুদক

দুদক

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস ॥ বাংলাদেশ ডেভেলমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডে (বিডিবিএল) অযোগ্য ব্যক্তি ও ভুঁইফোড় কিছু প্রতিষ্ঠানকে জামানতবিহীন এবং অস্তিত্বহীন জামানত রেখে অর্ধশত কোটি টাকার বেশি ঋণ দেওয়ার অভিযোগ যাচাই করতে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পেয়ে প্রাথমিক যাচাইবাছাই শেষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানের দায়িত্ব পেয়েই গুলশান আনোয়ার প্রধান বিডিবিএল এবং ঋণসংক্রান্ত যাবতীয় নথি সংগ্রহ করেছেন।

অনুসন্ধানের দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি বিডিবিএলের সাবেক ও বর্তমান ১০ কর্মকর্তাকে তলব করেছেন।রোববার এই ১০জনকে তলব করে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। তলব করা ব্যক্তিদের মধ্যে বর্তমান দুই উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি), বর্তমান ৩ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, সাবেক ৩ মহাব্যবস্থাপকসহ (জিএম) পাঁচজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়েছেন। এই ১০ জনকে ১৭ ও ১৯ অক্টোবর দুদকে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।

দুই ডিএমডি দিলওয়ার হোসেন ভূইয়া ও দীনা আহসান, এজিএম সৈয়দ মো. নজরুল ইসলাম এবং দুই এসপিও এস এম সিরাজুল ইসলাম ও শ্যামল কুমার দাসকে ১৯ অক্টোবর দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে। ১৭ অক্টোবর তলব করা হয়েছে সাবেক ৩ জিএম নাজমুল বারী, খলিলুর রহমান চৌধুরী ও এ এস এম জিয়াউল হক, সাবেক পরামর্শক খন্দকার মাহমুদুল হাসান এবং ডিজিএম মো. সোলায়মান আলীকে।

এর আগে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণসংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র তলব করে পৃথক ৩টি চিঠি দেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের মূল কপি সংরক্ষণ করে সত্যায়িত ছায়ালিপি সরবরাহের জন্য ব্যাংকের বর্তমান এমডিকে অনুরোধ করা হয়।

তলব করা নথিপত্রের মধ্যে রয়েছে বিডিবিএলের প্রিন্সিপাল শাখার গ্রাহক এম এম ভেজিটেবলের হিসাব খোলার ফরম, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সমঝোতাপত্র (এমও ইউ), গ্রাহকের ঋণের আবেদনপত্র, শাখার সুপারিশ, ক্রেডিট কমিটির অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদের ৬৫ ও ৬৬তম সভায় উপস্থাপিত বোর্ড মেমো এবং বোর্ড রেজল্যুশনপত্র এবং শাখায় প্রেরিত অনুমোদনপত্র।। ওই ঋণ ও এলটিআরের (লোন অ্যাগেইনস্ট ট্রাস্ট রিসিট) বিপরীতে শাখায় রাখা জামানত, ঋণের বিপরীতে জামানত হিসাবে ১২ কোটি টাকার এফডিআরসংক্রান্ত রেকর্ডপত্র।

ওই গ্রাহকের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি এবং উক্ত ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার উক্ত গ্রাহকের ওপর ওই ব্যাংকের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপিও চাওয়া হয়।

দ্বিতীয় চিঠিতে বিডিবিএলের প্রিন্সিপাল শাখার গ্রাহক ঢাকা ট্রেডিং হাউসের একই ধরনের নথি তলব করা হয়। এ ছাড়া ঢাকা ট্রেডিং হাউসের সঙ্গে খাদ্য বিভাগের সম্পাদিত সমঝোতাপত্রের (স্থানীয় বাজার থেকে ১৫০০০ মেট্রিক টন গম সংগ্রহের) সত্যায়িত কপি, ওই গ্রাহকের ওপর নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান জি কিবরিয়া অ্যান্ড কোম্পানির ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অডিট প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি, ওই গ্রাহকের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি এবং ব্যাংকের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি চাওয়া হয়।

এ ছাড়াও প্রিন্সিপাল শাখার গ্রাহক টাটকা অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড এবং এ এইচ জেড এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেডের ঋণ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি তলব করা হয়।

এই সংক্রান্ত আরো নিউজ

Leave a Comment