তিতাসের ‘অসুস্থ’ এমডি দুদকে যাননি, তবে অফিস করছেন

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস ॥  অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তলবে হাজির হননি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মীর মশিউর রহমান ও আরেক কর্মকর্তা।সোমবার তাঁদের দুদকে হাজির হওয়ার জন্য তলব করা হয়েছিল।

দুদক সূত্র জানায়, সকালে মীর মশিউর রহমান অসুস্থতার কথা জানিয়ে দুদকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে দুদকে হাজির হতে তিন সপ্তাহের সময় চেয়েছেন তিনি।

তবে তিতাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, মীর মশিউর রহমান সকাল থেকে তিতাসের প্রধান কার্যালয়ে অফিস করছেন।

জানতে চাইলে তিতাসের ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘তিনি (মীর মশিউর রহমান) সকাল থেকে অফিস করছেন।’

মীর মশিউর রহমানের মতো একইভাবে অসুস্থতার কথা জানিয়ে দুদকের কাছে সময় চেয়েছেন উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এস এম আবদুল ওয়াদুদ।

গত ২০ সেপ্টেম্বর তিতাসের আট কর্মকর্তাকে দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে চিঠি দেন দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী।

তিতাসের এমডি মীর মশিউর রহমান, ডিজিএম এস এম আবদুল ওয়াদুদ ও ব্যবস্থাপক ছাব্বের আহমেদ চৌধুরীকে ১ অক্টোবর দুদকে হাজির থাকতে বলা হয়।

২ অক্টোবর হাজির থাকতে বলা হয় তিতাসের নারায়ণগঞ্জ শাখার মহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান, টিঅ্যান্ডটি শাখার (গাজীপুর) ব্যবস্থাপক আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান, ব্যবস্থাপক মো. আখেরুজ্জামান, ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস শাখার ব্যবস্থাপক শাহজাদা ফরাজী ও সহকারী কর্মকর্তা আবু ছিদ্দিক তায়ানীকে।

আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিটার টেম্পারিং ও মিটার বাইপাস করে গ্যাস সংযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, এই অভিযোগ আমলে নিয়ে দুদক ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল থেকে একটি অনুসন্ধান শুরু করে। সেই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তিতাসের এসব কর্মকর্তাকে তলব করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ, সীমার অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে দিয়ে ঘুষ গ্রহণসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরেকটি অনুসন্ধান করছে দুদক। ২০১৭ সালের অক্টোবরে এই অনুসন্ধান শুরু হয়। এই অভিযোগে দুজনকে তলব করেছিল সংস্থাটি। গতকাল তাঁদের হাজির হওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তাঁরা সময় চেয়েছেন। এই দুই কর্মকর্তা হলেন তিতাসের পাইপলাইন ডিজাইন বিভাগের একটি শাখার ব্যবস্থাপক সাব্বের আহমেদ চৌধুরী এবং ইলেকট্রিক্যাল কোরেশন কন্ট্রোল (ইসিসি) বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান।

গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোয় তিতাসে ‘কেজি মেপে’ ঘুষ লেনদেন শীর্ষক একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে ঘুষ খাওয়ার জন্য তিতাসের কর্মকর্তারা একে অপরের সঙ্গে সাংকেতিক শব্দ ব্যবহার করেছেন। নিজেরা ঘুষ খাওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের কাছ থেকে ঘুষ এনে দিতে মাঝখানে একটি দালালশ্রেণিও তৈরি করেছেন তাঁরা। দালালেরা ঘুষের টাকা সরাসরি পৌঁছে দিয়েছেন তিতাসের বড় কর্মকর্তাদের কাছে।

দুদকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধানে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উঠে আসা বিষয়গুলোও পর্যালোচনায় আনা হতে পারে।

এই সংক্রান্ত আরো নিউজ

Leave a Comment