নবীগঞ্জে প্রেমিকের প্রতারণায় ধর্ষিত

ধর্ষণ

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস ॥ নবীগঞ্জে প্রেমিকের প্রতারণায় যুবতী ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বিয়ের প্রলোভনে ডেকে এনে এক লম্পট তার সহযোগীদের নিয়ে এক যুবতীকে ধর্ষণ করে। উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের ইমামবাড়ী বাজারসংলগ্ন একটি ফিশারীর পরিত্যক্ত ঘরে এ ঘটনা ঘটে। খড়িয়া   গ্রামের ধর্ষিতা ওই তরুণীকে গতকাল হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এ খবর নিশ্চিত  করেন থানার অফিসার ইনচার্জ সোহেল রানা।

পরিচয় গোপন করে মোবাইল প্রেমের সম্পর্কের জের হিসেবে চাঞ্চল্যকর ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে। আলোচিত ঘটনায় ধর্ষিতার পিতা বাদী হয়ে লম্পট প্রেমিক স্বপন মিয়া, হামিদ মিয়া, ডেবরা গ্রামের হাজী মতিন মিয়ার পুত্র সিএনজি চালক মোশাহিদ মিয়া (২২) এবং সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রেমিকের ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে প্রতারণা শিকার হয় ওই যুবতী। প্রতারক প্রেমিক গণধর্ষণ শেষে বুধবার ভোরে পুরানগাঁও মুচিবাড়ি সংলগ্ন স্থানে তাকে ফেলে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ওই যুবতীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ধর্ষণকারীদের গ্রেপ্তারে পার্শ্ববর্তী বানিয়াচং উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ওই ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের হিরানন্দ সরকারের মেয়ে কনিকা সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে ইমামবাড়ী এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য সুন্দর মিয়ার পুত্র সিএনজি চালক স্বপন মিয়া। এরই জের হিসেবে ফোন করে প্রেমিকা কনিকা সরকারকে তার সঙ্গে দেখা করার জন্য ইমামবাড়ী বাজারে আসতে বলে।

সরল বিশ্বাসে কনিকা সরকার প্রেমের টানে প্রেমিক স্বপনের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি থেকে গোপনে চলে আসে। এ সময় প্রেমিক স্বপন তাকে ইমামবাড়ী বাজার সংলগ্ন মজুর খানের ফিশারীর পরিত্যক্ত একটি ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তার অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সহকর্মীকে নিয়ে রাতে ধর্ষণ করে। ভোরে তাকে স্থানীয় পুরানগাঁও গ্রামের মুচিবাড়ির সংলগ্ন স্থানে রেখে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। এ সময় ওই এলাকার আবদুল হামিদ নামের এক যুবক অসুস্থ ওই তরুণীকে ইমামবাড়ী বাজারে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে ওসি (অপারেশন) উত্তম কুমার দাশের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় ওই যুবতী পুলিশের কাছে বিস্তারিত প্রকাশ করে। এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লম্পটরা সনাতনী ওই যুবতীকে ধর্ষণ শেষে পুরানগাঁও মুচিবাড়ি সংলগ্ন স্থানে ফেলে যায়। সার্বিক বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ শেখ মো. সোহেল রানা বলেন, ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ধর্ষকদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই সংক্রান্ত আরো নিউজ

Leave a Comment