নগ্নতার ফাঁদে ফেলে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়: দম্পতি গ্রেপ্তার

CNS

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস ॥ খুলনায় নগ্ন ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি আরও ২০ লাখ টাকা আদায়ের চেষ্টাও চলছিল। ঘটনার মূল নায়ক ভুক্তভোগীর আপন ভায়রার ছেলে ও স্ত্রী। অবশেষে দীর্ঘ সাড়ে ৩ বছর ধরে অব্যাহত এ প্রতারণা শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে র‌্যাব। গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রতারক দম্পতিকে। নগরীর ছোট বয়রাস্থ করিমনগর এলাকার মৃত কাজী আবদুুর রউফে ছেলে কাজী আবদুল মুনিম (৩৭) এবং তার স্ত্রী মোসা. তানজিলা হাসান ঝুমা (২৪)। উদ্ধার করা হয়েছে ইন্টারনেটের প্রেরণকৃত কাগজপত্রের ৪০ পাতা ফটোকপি, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন কোম্পানির ১২টি সীম, একটি মেমোরি কার্ড ও সীমসহ একটি মোবাইল ফোন।

র‌্যাব-৬ খুলনা স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, একটি প্রতারক চক্র প্রায় চার বছর আগে ওয়াজেদ আলী নামক ব্যক্তিকে ব্যবসায়িক কাজের কথা বলে নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ আলী ক্লাবের মোড়ে একটি তিনতলা বাড়ির নিচতলার রুমের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে একটি মেয়েকে দিয়ে আপত্তিকর ছবি ও প্রায় ২০ মিনিটের ভিডিও ধারণ করে অপরাধচক্র।

পরে ধারণকৃত ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা নেয়। ওই চক্রকে এ টাকা দেয়ার কথা বলে ওয়াজেদ আলীর ভায়রার ছেলে কাজী আবদুল মুনিম তার কাছে থাকা চেক বই জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে ব্যাংক থেকে এ টাকা তুলে নেয়।

এর কিছুদিন পর ওয়াজেদ আলীর ছেলে মো. তৌহিদুজ্জামান সুমনের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা আদায় করে। এছাড়া ভিকটিম ওয়াজেদ আলীর স্ত্রীকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকেও নেয়া হয় আরও ২০ লাখ টাকা। এভাবে ব্ল্যাকমেইল করে এ পরিবারটির কাছ থেকে তিন দফায় মোট ৩০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এর পর ১৮ই সেপ্টেম্বর ওই প্রতারক চক্র আবারও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরিবারটি বার বার টাকা দিতে পারবে না বলে জানালে আরও ২০ লাখ টাকা দিলে বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধান করা হবে বলে রেশমা নামে প্রতারকচক্রের এক সদস্য তাদের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর তাদের দেয়া দু’টি বিকাশ নম্বরে দু’ দফায় আরও ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়। এর পরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করতে থাকে। এছাড়াও তারা ওয়াজেদ আলীর পুত্রবধূ শ্রাবণীর ফেসবুকে অশালীন ভাষা এবং আপত্তিকর ছবি আপলোড দিয়ে ভিডিও ইউটিউবে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিতে থাকে। এ ঘটনায় ওয়াজেদ আলী বাধ্য হয়ে ২০শে সেপ্টেম্বর খুলনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, ডায়েরির কপিসহ র‌্যাব-৬ খুলনার নিকট অভিযোগ দাখিল করা হলে তথ্য ও প্রযুক্তি ও বিকাশ অথরিটির সহায়তায় বিষয়টি অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে পুরো ঘটনার সঙ্গে ওয়াজেদ আলীর ভায়রার ছেলে কাজী আবদুল মুনিম ও তার স্ত্রী তানজিলা হাসান ঝুমার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এরপরই সোমবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং বিভিন্ন দফায় মোট ৩০ লাখ ৪২ হাজার টাকা গ্রহণ ও স্থায়ী সমস্যা সমাধানের নামে আরও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। তবে, এছাড়াও তাদের সঙ্গে আরও ১০-১২ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনসহ দণ্ডবিধি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই সংক্রান্ত আরো নিউজ

Leave a Comment