বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করুন

ক্রাইম নিউজ সার্ভিসঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে সব ধরনের সমালোচনা করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে ১৭৭ জন সাংবাদিকের মাঝে ভাতা অনুদানের চেক বিতরণে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সমালোচনায় ভয় পান না। বরং সমালোচনা তাঁকে ভাল-মন্দ বুঝতে সাহায্য করে। তবে দেশ ও জনগণের ক্ষতি করে এমন সমালোচনা গ্রহণযোগ্য নয়। আপনাদের হাতে কলম রয়েছে, যা কোন অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত হবে না। আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে যাতে আপনাদের লেখনীতে দেশের অগ্রগতি থেমে না যায় এবং শত্রুরা সুযোগ না পায়।

তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সরকারের কর্মকান্ডের ত্রুটি খুঁজে পেতে পারেন, তবে সঠিকভাবে চিন্তা করলে আপনারা দেখতে পাবেন যে আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিচ্ছি এবং বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের পর্যায়ে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখানেই থেমে থাকবো না। বঙ্গবন্ধুর আকাক্সক্ষার অনুসরণে বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশে পরিণত হবে এ কথা উল্লেখ করে তিনি দেশের উন্নয়ন বিরোধী কর্মকা-, ধ্বংসাত্মক রাজনীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ করতে সহায়তা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বক্তৃতা করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদে তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এ কে এম রহমত উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ও তথ্য সচিব মরতুজা আহমেদ।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আলতাফ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ এবং সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদকগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

১৭৭ জনের মধ্যে ৬৩ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন। অবশিষ্ট চেক সাংবাদিক ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট শাখা বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

অসুস্থ, অস্বচ্ছল ও আহত সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের জন্য বর্তমান সরকারের আমলে প্রণীত নীতিমালার আওতায় গঠিত আর্থিক সহায়তা তহবিল থেকে এ অনুদান দেয়া হয়।

এই সরকারের আমলে সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তার জন্য প্রথম গৃহীত এই ব্যবস্থায় বিগত ৪ বছরে ৬২৩ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারকে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়।

তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার সাংবাদিকদের জন্য অষ্টম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যে সকল সংবাদপত্র অষ্টম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করেছে সে সব পত্রিকার বিজ্ঞাপনের হার দ্বিগুণ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা এখনো অষ্টম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করেনি, তাদের বিষয়টি সরকার নিবিড়ভাবে মনিটর করছে। ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে যারা ব্যর্থ হবে তাদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা সীমিত করে দেওয়া হবে।

সাংবাদিকতার একটি নিয়মনীতি রয়েছে একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোন ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানের চরিত্রহনন করে এ ধরণের নিউজ প্রকাশিত হওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, যদি ভুল তথ্য দিয়ে চরিত্রহনন করা হয়, পরে যতোই রিজয়েন্ডার দেওয়া হোক না কেন, যে ক্ষতি হয় তা আর পূরণ করা যায় না।

দেশের প্রতি সাংবাদিকদের নিরলস সেবার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও তারা কাজ করেন।

সাংবাদিকদের আর্থিক দুর্দশা বিবেচনা করে সরকার একটি স্থায়ী কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা সত্ত্বেও তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জন্য এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি ট্রাস্ট কার্যক্রম চালুর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ‘সিড’ মানি দেয়ার আশ্বাস দেন এবং তিনি ট্রাস্টে তহবিল সরবরাহের জন্য দানশীল ব্যক্তি এবং সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের গণতন্ত্র শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা ভূমিকা পালন করছেন।

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা দেশের গণতন্ত্র ব্যাহত এবং সরকার উচ্ছেদের জন্য বিএনপি-জামায়াতের দেশব্যাপী সংঘাত ছড়িয়ে দেয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের লালন এবং রাজনীতির নামে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে মতামত প্রদান ও সোচ্চার হওয়ার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সামাজিক অস্থিরতা ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা অপরাধীদের গ্রেফতারে সহযোগিতা করতে পারেন।

আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্রকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে এবং গ্রাম ও শহরের মধ্যে আয়ের ব্যবধান কমানোর মাধ্যমে দেশের প্রকৃত উন্নয়নে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার সাংবাদিকদের জন্য অনেকগুলো সময়োপযোগি পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জার্নালিস্ট ওয়ার্কার (টামর্স অব জব) বিল-২০১৫ গঠন করা হয়েছে এবং অচিরেই এটি আইনে পরিণত হবে।

সাংবাদিকদের আবাসন সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাইয়ার পারচেস ভিত্তিতে সাংবাদিকদের মাঝে ফ্লাট বরাদ্দের জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি একক পেশাজীবী গ্রুপ হিসেবে সাংবাদিকরা সরকার থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্লট বরাদ্দ পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিক কমিউনিটির কল্যাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ নীতি হিসেবে সরকার ব্রডকাস্ট পলিসি-২০১৪ গঠন করেছে এবং অতিদ্রুত সময়ে ব্রডকাস্ট কমিশন অ্যাক্ট প্রণয়ন করা হবে।

আইসিটি সম্প্রসারণের কারণে দেশে অন-লাইন মিডিয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার অন-লাইন মিডিয়া পলিসি গঠন করছে যা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। এই পলিসি সমাজে বিশেষ করে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর কিছু অশোভন ছবি পোস্টিং রোধে সহায়তক হবে।

Please follow and like us:
0

Related posts

Leave a Comment