প্রয়োজনে যুক্তফ্রন্টকে স্থায়ী মঞ্চ করে দেওয়া হবে

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস ॥ যুক্তফ্রন্টকে জনসভা করতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ দিতে ডিএমপিকে বলবেন বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘তাদের যেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দেওয়া হয়, প্রয়োজনে স্থায়ী একটা মঞ্চ করে দেওয়া হবে, যেন তারা ৬০-৭০ জন মিলে গলা ফাটিয়ে বক্তৃতা করতে পারেন। প্রয়োজনে লোকও দেবো।’ শনিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের ‘জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’র সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

যুক্তফ্রন্টকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘তাদের স্বাগত জানাই। তারা রাজনীতি করুক। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটা প্লাটফরম তো থাকা দরকার। কিন্তু অন্যকিছু ভাবলে তাদের আশা পূরণ হবে না।’ তিনি বলেন, ‘তারা অভিযোগ করেছেন, তাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দেওয়া হয়নি। আসলে সেখানে আরও কেউ জনসভা করতে চেয়েছিল। তাই হয়তো যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে তাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, দারিদ্র্যের হার কমেছে, শস্য উৎপাদনে আমরা এগিয়ে গেছি। কিন্তু এসব ভালো কাজ তাদের চোখে পড়ে না।’তিনি বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্যই মানুষ আবার নৌকায় ভোট দেবে। আমি ছয়মাস পরপর সার্ভে রিপোর্ট করছি। আমাদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। প্রার্থীদের ব্যাপারে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। দুই-একজন বাদে অধিকাংশ এমপিদের অবস্থা ভালো। টানা দুই বার ক্ষমতায় থাকা ও একইসঙ্গে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা সচরাচর হয় না। কিন্তু আমরা পেরেছি। কারণ, জাতির জনক আমাদের সেই আদর্শ শিখিয়েছেন। দিনরাত আমি মানুষের জন্যই কাজ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ থেকে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি। মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। এসব উন্নয়ন কারও চোখে পড়ে না।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি মিথ্যাচারে চ্যাম্পিয়ন। তাদের দলের মহাসচিবকে নাকি জাতিসংঘের মহাসচিব আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, এমন অপপ্রচার করলেন দেশের ভেতর। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখলাম, জাতিসংঘের মহাসচিব ওই সময় ছিলেন ঘানায় কফি আনানের অন্ত্যেষ্টেক্রিয়ার অনুষ্ঠানে। জাতিসংঘ থেকে আমাদের বলা হলো, মহাসচিব তাদের আমন্ত্রণ জানাননি। বরং তারাই দেখা করতে চেয়েছেন। এমন নাটক করার দরকার কী, মিথ্যাচার করার দরকার কী? এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এমন মিথ্যাচার, ধোঁকাবাজি, ভাঁওতাবাজিতে বিএনপি চ্যাম্পিয়ন। এর আগেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন সরকার গঠন করেন তখন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর টেলিফোন আলাপ নিয়ে তারা এমন মিথ্যাচার করেছিল। কেউ অপকর্ম করলে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করলে বরদাশত করা হবে না।’

যারা সরকারের কোনও উন্নয়ন দেখেন না, তারা চোখ থাকতেও অন্ধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘তাদের মনের দরজা বন্ধ। এ সরকারের ভালো কাজ তাদের চোখে পড়ে না। যারা মানুষ হত্যা করে, গ্রেনেড হামলা করে, অর্থ লুটপাট করে, তাদেরই তারা পছন্দ করেন। তারা থাকেন কিছু একটার আশায়। যদি কিছু একটা হয়। কিন্তু উত্তরপাড়ার দিকে তাকিয়ে থেকে লাভ নেই। উত্তরপাড়া থেকে কেউ সাড়া দেবেন না। তাদের কেউ ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না। এমন মানসিকতা কারও নেই।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারও গলা চিপে ধরিনি। তবে সহিংসতায় উসকানিমূলক যেকোনও তৎপরতা মোকাবিলা করা হবে।’

আমেরিকায় বিএনপি লবিয়িস্ট নিয়োগ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এত টাকা তারা পেলো কোথায়? এর আগে তারা জয়কেও হত্যাচেষ্টা করেছিল। আমেরিকার এফবিআই কর্মকর্তাকে কিনেছিল। এসময় ষড়যন্ত্রে কারা লিপ্ত ছিল, তা সবাই জানে। শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের নাম এ প্রসঙ্গে এসেছে। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে এমডি পদ চলে যাওয়ায় হিলারিকে দিয়ে ইউনূস পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ করলো। আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনলো। আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম। একফোঁটা দুর্নীতিও পায়নি। তারেক রহমান এত টাকা পায় কোথায়? বিলাসী জীবনযাপন করে, তিনটা গাড়ি রয়েছে তার। অথচ আমার বোন লোকাল গাড়িতে চড়ে। যারা অর্থ লুট করে, এতিমের টাকা মেরে খায়, দেশবাসীকে বলবো, তাদের পরিহার করুন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রথম দুই দিন খুবই ভালো ছিল আন্দোলন। পুলিশ, আমার দলের নেতাকর্মী, এমপি-মন্ত্রীদের বলেছিলাম, ধৈর্য ধরুন। শিক্ষার্থীরা যা বলে, তা শুনুন। কিন্তু এর মাঝে তৃতীয় পক্ষ নেমে গেলো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য। একজন আঁতেল তো আল জাজিরা টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিলেন, এখানে নাকি গণহত্যা চলছে। আল জাজিরা ক্ষমা চাইলো তাদের ভুল সংবাদ পরিবেশনের জন্য। আবার কেউ ফেসবুকে বললেন, নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। তিনি যেখান থেকে বললেন, পেছনে তো অন্য সাইনবোর্ড ছিল। দরজিপাড়ায় স্কুলড্রেস বানানোর ধুম পড়ে গিয়েছিল, পলাশীতে ভিড় আইডি কার্ড বানানোর। এদের অপপ্রচারের কারণে আমার পার্টি অফিসে হামলা হলো। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হলো। যারা গুজব রটিয়েছে, মিথ্যাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তো ব্যবস্থা নেবোই।’

২০০১ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের পর বিএনপির শাসন আমলের কথা ভুলে না যেতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভাঁওতাবাজি থেকে দেশের মর্যাদাহানি করা ছাড়া বিএনপির আর কোনও প্রাপ্তি নেই।’ এই সময় তিনি জাতিসংঘে বিএনপি নেতাদের  আলোচনার উদ্যোগ, দেশের বিরুদ্ধে ড. ইউনূসের তৎপরতা ও বিএনপির অপপ্রচারের সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য, সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এই সংক্রান্ত আরো নিউজ

Leave a Comment