দেবর-ভাবির পরিকল্পনায় খুন

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস ॥ ঢাকার বাড্ডায় গত সপ্তাহে যে ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তাকে তার স্ত্রী ও ভাই পরিকল্পনা করে খুন করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তদন্তে উদ্ঘাটিত তথ্য তুলে ধরে শনিবার ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম মোস্তাক আহমেদ খান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেবর-ভাবির ‘পরকীয়া সম্পর্কের’ জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর সকালে বাড্ডার সাতারকুলে হিন্দু পাড়ার খোলা মাঠের রাস্তায় মনিরুজ্জামান মনির ওরফে মনু নামে ওই ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়। তার গলা এবং পেটে ছুরিকাঘাতের জখম ছিল।

রংমিস্ত্রি মনির কাজ করতেন ফেনীতে; দিনাজপুরে তার পৈত্রিক বাড়িতে দুই ছেলেকে নিয়ে থাকতেন স্ত্রী কাজল রেখা। ঢাকায় ভাই আজমল হক মিন্টুর কাছে এসেছিলেন মনির। মিন্টু ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সুপার ভাইজার। তিনি থাকেন বাড্ডায়।

মনিরের লাশ উদ্ধারের পর ছোট ভাই মিন্টু বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন; তার তদন্তে গিয়ে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে বাদী মিন্টুর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পান।

পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাক বলেন, তদন্তের এক পর্যায়ে মিন্টু ও কাজল রেখার ফোনালাপে তাদের সন্দেহ হয়। তখন কাজল রেখাকে আটক করে ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি খুনের কথা স্বীকার করেন।

হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য মিন্টু তার অধীনে থাকা এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ তিনজনকে এক লাখ টাকায় ভাড়া করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মান্নান (১৯), সোহাগ (১৮) ও শাহিন (১৮) নামে ওই তিনজনকে ইতোমধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

উপ- কমিশনার মোস্তাক বলেন, “প্রায় আট বছর ধরে ভাবি কাজল রেখার সঙ্গে মিন্টুর পরকীয়া সম্পর্ক। কাজল রেখা গ্রামের বাড়ি থাকলেও তাদের সম্পর্ক টিকে ছিল।

“দুই সন্তানের জননী কাজল রেখা এক পর্যায়ে মিন্টুকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু মনির বেঁচে থাকলে এবিয়ে সম্ভব নয় বলে তারা মনিরকে খুনের পরিকল্পনা করে।”

পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাক বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী মিন্টু তার অধীনে কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী মান্নানসহ তিনজনকে এক লাখ টাকায় ভাড়া করে। অগ্রীম হিসাবে ৩০ হাজার টাকাও দেয়।

মিন্টু পুলিশকে বলেছেন, নিজের বিয়ের পাত্রী দেখার কথা বলে ভাই মনিরকে ঢাকায় ডেকে আনেন তিনি। মনির দিনাজপুর থেকে ৮ সেপ্টেম্বর ভোরে ঢাকার গাবতলীতে নামলে তাকে বাড্ডায় আনতে যান মান্নান।

আনার পথে সাতারকুলের কাছে নিরিবিলি স্থানে নিয়ে মান্নানসহ অন্য তিনজন ছুরিকাঘাত করে মনিরকে খুন করে পালিয়ে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কাজল রেখার স্বীকারোক্তিতমূলক জবানবন্দি ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এখন পুলিশ বাদী হয়ে মিন্টু, কাজল রেখাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করেছে বলে উপ-কমিশনার মোস্তাক জানান।

এই সংক্রান্ত আরো নিউজ

Leave a Comment