ক্রাইম নিউজঢাকা বিভাগবিভাগীয় সংবাদ

কামাল-বি চৌধুরীর ৫ দফা

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস ॥ সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং ভোটের সময় বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনসহ পাঁচ দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গণফোরাম ও যুক্তফ্রন্ট।

নিজেরা জোট বেঁধে ‘জাতীয় ঐক্য’ প্রতিষ্ঠায় কাজ শুরুর অঙ্গীকার ঘোষণার পর শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবিনামা তুলে ধরেন গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন।

যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বাড়ি থেকে রওনা হলেও অসুস্থতার কারণে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি বলে যুক্তফ্রন্টের সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান মান্না জানান। বিকল্প ধারার সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের বাইরে তৃতীয় একটি রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের লক্ষ্যে বি চৌধুরী, মান্না ও আ স ম রব গঠিত যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়ে ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’র ঘোষণা দেন কামাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “একটা বৃহত্তর ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে আমরা যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার যৌথ ঘোষণা তুলে ধরলাম। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ঐক্য করতে চাই। পাড়ায় পাড়ায়, গ্রামে গ্রামে, ঘরে ঘরে এই ঐক্য গড়ে উঠুক, যাতে দেশের জনগণ তার মালিকানা ফিরে পায়।

“আমি বলতে চাই, এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য আজকে শুরু হল। আপনাদের সকলকে নিয়ে ইনশাল্লাহ আমরা সফল হব এবং বাংলাদেশে একটা কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবেই হবে।”

৫ দফায় রয়েছে

>> একাদশ সংসদ নির্বাচনে সকলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা এবং নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়া;

>> আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা ইসির উপর ন্যস্ত করা;

>> নির্বাচনের এক মাস আগে এবং নির্বাচনের পর ১০ দিন পর্যন্ত মোট ৪০ দিন ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন;

>> কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রছাত্রীসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের মুক্তি এবং এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার না করা;

>> নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ গণমুখী করে সংশোধন।

ঘোষণায় ৯টি লক্ষ্যের কথাও জানানো হয়েছে; এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, প্রশাসন বিকেন্দ্রিকরণ, ন্যায়পাল নিয়োগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদসহ যুগোপযোগী সংশোধন, দুর্নীতি দমন কমিশনের সংস্কার ইত্যাদি।

Comment here