‘রাষ্ট্রের জন্য ভালো হলে আমি তা মেনে নিলাম’

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস ॥ ‘এই নিখোঁজ যদি রাষ্ট্রের জন্য ভালো হয় তাহলে আমি তা মেনে নিলাম। আমাদের আর কিছু করার নাই। আমি রাষ্ট্রের সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গিয়েছি। তারা কেউ গত এক বছরে আমার ছেলের কোনও সন্ধান দিতে পারেনি। আমাদের বাসায় বসে কাঁদা ছাড়া আর কিছু বলার নেই।’
শনিবার দুপুরে পোশাক ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন আহমেদ আক্ষেপ করে এই কথাগুলো বলছিলেন। তার ছেলে ইশরাক আহমেদ (২০) গত বছরের ২৫ আগস্ট ধানমন্ডির স্টার কাবাবের সামনে থেকে নিখোঁজ হন। ইশরাক কানাডার ‘ম্যাকগিল’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গত বছর ছুটি কাটাতে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। গত এক বছর ১৫ দিনে তার সন্ধান পায়নি পরিবার। ছেলে নিখোঁজের ঘটনায় তিনি ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। জিডির তদন্ত এখনও চলছে।
নিখোঁজ ইশরাকের বাবা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে এতগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে। তারা কেউ তথ্য দিতে পারলো না। আমরা এখন নিরাশ হয়ে গেছি। আমাদের যাবার মতো আর জায়গা নেই। আমি জানি না, আমার ছেলেকে কারা নিলো, কেন নিলো। তারাই বলতে পারবে। তারা যদি মনে করে থাকে আমার ছেলেকে নিখোঁজ করলে রাষ্ট্রের ভালো হবে, তাহলে আমি তা মেনে নিলাম।’
তিনি বলেন, ‘গত এক বছর ধরে আমরা অপেক্ষা করছি। বাসায় বসে কাঁদছি। এছাড়া আমাদের আর কিছু করার নাই। আমরা এখনও অপেক্ষা করছি।’
জিডির তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তদন্তে আসলে কোনও অগ্রগতি নেই। জিডির তদন্ত কর্মকর্তাও পরিবর্তন হয়েছে। আগে যিনি ছিলেন তিনি ধানমন্ডি থানা থেকে বদলি হয়ে গেছেন। বর্তমানে নতুন একজন এসআই তদন্ত করছেন। তিনিও কোনও তথ্য দিতে পারেননি। আমি সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কোনও লাভ হয়নি।’
২০১৭ সালে ধানমন্ডি থেকে আরও কয়েকজন ব্যক্তি নিখোঁজ হন যাদের হদিস এখনও মেলেনি। এদের মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান (৬১) একজন। তিনিও গত বছরের ৪ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় মারুফ জামানের মেয়ে সামিহা জামান একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ২১৩) করেছেন। তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে ২০০৮ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভিয়েতনামে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি কাতারে রাষ্ট্রদূত ও যুক্তরাজ্যে কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে তিনি অবসর নেন। পরিবারের সঙ্গে তিনি ধানমন্ডির বাসায় থাকতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ধানমন্ডির বাসা থেকে প্রাইভেটকারে বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তার মেয়ে সামিহা জামান বিদেশ থেকে বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা ছিল। মেয়েকে আনতেই তিনি বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এরপর থেকেই তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বিমানবন্দর যাননি, বাসায়ও ফিরে আসেননি। পরিবার তার কোনও খোঁজ না পেয়ে জিডি করেন। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন মারুফ জামানের ব্যক্তিগত গাড়িটি খিলক্ষেত থানার ৩০০ ফিট সড়ক থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এই সংক্রান্ত আরো নিউজ

Leave a Comment