২২ বছরেও খুনিদের বিচার হয়নি

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস ॥ ৯ সেপ্টেম্বর ভয়াবহ পাকুয়াখালী গণহত্যা দিবস। ১৯৯৬ সালের এই দিনে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ির পাকুয়াখালীতে লংগদু উপজেলার কাঠুরিয়াদের কাঠ সংগ্রহের সীমানা নির্ধারণের জন্য ডেকে নিয়ে ৩৫ জনকে হত্যা করা হয়। হত্যার তিন দিন পর নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়। সেই সময়ে এই হত্যার জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন শান্তি বাহিনীকে দায়ী করা হয়। এরপর প্রায় ২২ বছর অতিবাহিত হলেও খুনিদের বিচার হয়নি আজও।

হত্যার ঘটনায় বাঘাইছড়ি থানায় মামলা হলেও পরে সিআইডিকে এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই তদন্ত ২২ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। নিহতদের পরিবারের দাবি— সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে পুনর্বাসনের কথা বলা  হলেও পরে কেউ আর তাদের কোনও খবর রাখেনি। স্বজন হত্যার বিচার না পেয়ে বর্তমানে হতাশায় দিন কাটছে এই পরিবারগুলোর।

সেদিনের ঘটনায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে জীবন নিয়ে আসা ইউনুছ মিয়া এই মামলার বাদী। তিনি বলেন,‘যখন আমরা সেখানে যাই, তখন তারা সবার হাত বাঁধতে শুরু করে।  বিষয়টি যখন বুঝতে পারি, তখন আমার হাতে ব্যথা বলে অভিনয় করি এবং আমাকে ওরা হালকাভাবে বাঁধে। অনেকক্ষণ পর পর এক-একজনকে একটু দূরে  নিয়ে যাচ্ছে। আর চিৎকারের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম।  মনে মনে ভাবতেছি জীবন তো শেষ।  সুযোগ বুঝে চোখ বুজে দিলাম দৌঁড়। দৌঁড় দিয়ে ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকলাম। রাতে গ্রামে ফিরে এসে সবাইকে ঘটনা বলি। কিন্তু কেউই বিশ্বাস করেনি। সকালে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা হতে থাকে। দুদিন পর ১১ সেপ্টেম্বর পুলিশ ও সেনাবাহিনীসহ স্থানীয় লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাদের লাশ উদ্ধার করে। পরে আমি বাদী হয়ে বাঘাইছড়ি থানায় মামলা দায়ের করি। ’

এই সংক্রান্ত আরো নিউজ

Leave a Comment