ঢাকায় দুই বোনের জঙ্গি কানেকশন খুঁজছে অস্ট্রেলীয় পুলিশ

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস্‌ ॥ সন্দেহভাজন নারী জঙ্গি মোমেনা সোমার বিষয়ে তদন্ত করতে ঢাকায় এসেছে অস্ট্রেলীয় পুলিশের দুই সদস্যের একটি দল। গত দুই দিনে তারা ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) সহযোগিতা নিয়ে মোমেনা সোমা ও তার ছোট বোন আসমাউল হুসনা ওরফে সুমনা সম্পর্কেও খোঁজখবর নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অস্ট্রেলীয় পুলিশ ঢাকায় এসে তদন্তে মূলত কোন কোন বিষয় গুরুত্ব দিচ্ছে তা জানতে চাইলে সিটিটিসির উপকমিশনার (ডিসি) মহিবুল ইসলাম বলেন, মোমেনা সোমা কিভাবে জঙ্গিবাদে জড়াল, বাংলাদেশে থাকতে নাকি অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে সে জঙ্গিবাদে জড়ায়, বিদেশি জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ আছে কি না এমন নানা বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ তদন্ত করতে বাংলাদেশে এসেছে।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, অস্ট্রেলীয় পুলিশ মূলত মোমেনা সোমা সম্পর্কেই বেশি খোঁজখবর নিচ্ছে। কারণ এই সন্দেহভাজন জঙ্গি অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে সে দেশের এক নাগরিককে হত্যাচেষ্টা চালায় বলে তাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তার ছোট বোন সুমনা সম্পর্কে তথ্য জানতে অস্ট্রেলীয় পুলিশের আগ্রহ রয়েছে। তারা এই দুই বোনের বিষয়ে এরই মধ্যে সিটিটিসির সঙ্গে কথা বলেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে সিটিটিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান হয়েছে।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলীয় পুলিশ ঢাকায় এসে সিটিটিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করে। এরপর গতকাল শুক্রবারও তাদের মধ্যে বৈঠক হয়। সংশ্লিষ্ট একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ৯ দিনের ব্যবধানে একজনকে হত্যার আগে মোমেনা সোমা ও তার বোন সুমনা কিভাবে জঙ্গিবাদে জড়াল, তাদের সঙ্গে নতুন ধারার জঙ্গি সংগঠনগুলোর কাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল, বাংলাদেশ পুলিশ তদন্তে দুই বোন সম্পর্কে কী জানতে পেরেছে এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব দিচ্ছে অস্ট্রেলীয় পুলিশ। এ ছাড়া তদন্তের প্রয়োজনে বাংলাদেশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে সোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার বিষয়েও কথা হয়েছে তাদের।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে বাংলাদেশি মোমেনা সোমাকে (২৪) অস্ট্রেলীয় পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা তার ছোট বোন সুমনাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সুমনাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এখন সে জেলে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে সুমনার কাছ থেকে সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া না যাওয়ায় তাকে আবারও রিমান্ডে নিতে চায় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিটিসি)।

সিটিটিসির ডিসি মহিবুল ইসলাম বলেন, এই পর্যায়ে এসে সুমনার এখন মনে হচ্ছে জঙ্গিবাদে জড়ানো ঠিক হয়নি। সুযোগ পেলে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায় বলেও জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছে।

সিটিটিসি সূত্র জানিয়েছে, নব্য জেএমবির সদস্য ও সিরিয়াফেরত প্রকৌশলী গাজী সোহানের মাধ্যমেই জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে সোমা। মেরিন ইঞ্জিনিয়ার নজিবুল্লাহ আনসারীর সঙ্গে সোহানই তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়। তবে সিরিয়ায় গিয়ে আইএসের নিষ্ঠুরতা দেখে সোহান পালিয়ে দেশে এসে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করলেও জঙ্গিবাদ থেকে সরতে পারেনি।

এই সংক্রান্ত আরো নিউজ

Leave a Comment