একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন আপিলেও বহাল

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস্‌ ॥ সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলী হত্যা মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে একজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাই কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তাতেই সায় দিয়েছে আপিল বিভাগ। ফলে হাই কোর্টের রায় অনুযায়ী বাকি তিনজনকে যাবজ্জীবন সাজা খাটতে হবে; আর পলাতক এক আসামি পাচ্ছেন অভিযোগ থেকে মুক্তি।

রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের করা আপিল খারিজ করে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ বুধবার এই রায় ঘোষণা করে, যার ফলে হাই কোর্টের রায়ই বহাল থাকে।

২০১২ সালের ৫ মার্চ মধ্যরাতে গুলশানে নিজের বাসার কাছে গুলিবিদ্ধ হন সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলী (৪৫)। পরদিন ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর পুলিশ গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে। আর সাড়ে চার মাস পর সাইফুল ইসলাম মামুন, আল আমিন, আকবর আলী, মো. রফিকুল ইসলাম নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের পরিচয় দেয়া হয় ‘ছিনতাইকারী’ হিসাবে।

তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। সেখানে গ্রেপ্তার চারজনের সঙ্গে সেলিম চৌধুরী নামে পলাতক আরেকজনকে আসামি করা হয়। ৩১ অক্টোবর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত।

আসামিদের মধ্যে আল আমীন হাকিম আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, সাইফুলসহ বাকি চারজন ওই রাতে খালাফকে ঘিরে ধরেন এবং তার কাছে ডলার চান।

ডলার না দেয়ায় তাদের মধ্যে ধস্তাধাস্তি হয়। পরে সাইফুল তার হাতে থাকা রিভলবার দিয়ে খালাফকে গুলি করে পালিয়ে যান বলে উল্লেখ করা হয় মামলার অভিযোগপত্রে।

ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোতাহার হোসেন ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর এ মামলার রায়ে পাঁচ আসামির সবাইকেই মৃত্যুদণ্ড দেন।
কিন্তু আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি করে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাই কোর্ট বেঞ্চ ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর যে রায় দেয়, তাতে কেবল সাইফুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দেওয়া হয়।

বাকি চার আসামির মধ্যে বিচারিক আদালতে ফাঁসির আদেশ পাওয়া আল আমীন, আকবর আলী ও রফিকুল ইসলামের দণ্ড কমিয়ে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পলাতক সেলিম চৌধুরী খালাস পান।

হাই কোর্টের রায়ে বলা হয়, অভিযুক্তরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ডাকাতি করতে ওই ঘটনা ঘটায়। হত্যাকাণ্ডের জন্য তারা সবাই দায়ী। আল আমিন ও খোকনের স্বীকারোক্তি অনুসারে দেখা যায়, পয়েন্ট ২২ বোরের রিভলবার দিয়ে সাইফুল ফায়ার করে। এতে তিনি আহত হয়ে পরে মারা যান। তবে সেলিমের বিরুদ্ধে তেমন কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ না থাকায় আদালত তাকে খালাস দেয় বলে সে সময় জানিয়েছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোরশেদুল আলম।

হাই কোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ২০ আগস্ট আপিল শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত রায়ের জন্য ১০ অক্টোবর দিনও ঠিক করে দেয়। কিন্তু এর মধ্যে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ছুটিতে বিদেশে যাওয়ায় এবং রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আসামি সাইফুলের আইনজীবীর আবেদনে আপিল বিভাগ পুনঃশুনানির সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার আসামি সাইফুল ইসলামের পক্ষে সিকদার মকবুল হক এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আপিলের পুনঃশুনানি করেন। পরে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা রায়ের জন্য বুধবার দিন রাখেন।

এই সংক্রান্ত আরো নিউজ

Leave a Comment