ওসি বুকে বসে গলা চেপে ধরে আর এসআই চোখ তুলে নেয়

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস্‌ ॥ খুলনার গোয়ালখালী মোড় থেকে হঠাৎ পুলিশ আমাকে আটক করে। এরপর থানায় নিয়ে মারধর চালায়। আমার স্ত্রী ও মা ছাড়াতে গেলে তাদের কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মাত্র ২০ হাজার টাকা নিয়ে থানায় হাজির হলে পুলিশ তাদেরকে গালিগালাজ করে থানা থেকে বের করে দেয়। টাকা দিতে না পারায় পরে আবারো মারধর করে। রাতে চিকিৎসার কথা বলে আমাকে থানা থেকে বের করে নিয়ে যায় পুলিশ। আবু নাসের হাসপাতাল পার হয়ে বিশ্বরোডের দিকে ব্রিজের আগে নির্জন স্থানে গাড়ি থামায়। আমাকে গাড়ি থেকে নামানোর পর দুই হাত পিঠের দিকে নিয়ে বেঁধে ফেলে। মুখের ভেতর গামছা ঢুকিয়ে দেয়। এরপর ওসি নাসিম খান আমার বুকের ওপর উঠে বসে গলা চেপে ধরে। আমার মাথা শক্ত করে ধরে এসআই তাপস। তারপর এসআই সেলিম সেলাই-রেঞ্জ দিয়ে চোখ তুলে নেয়।

পুলিশের হাতে আটক হয়ে চোখ হারানোর পর ব্যবসায়ী শাহজালাল আজ রবিবার খুলনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই তার ওপর ঘটে যাওয়া নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

ঘটনার তিন মাসের মাথায় খুলনা প্রেসক্লাবে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে শাহজালাল বলেন, ‘আমার পরিবার এখনও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। পুলিশ মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। কোনো রকম সাক্ষ্য না দিতে ভয় দেখাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে যেন আসতে না পারি, সে জন্য পুলিশ বাধা দিয়েছে। কিন্তু আমরা পেছনের দেয়াল টপকে অনেক কষ্টে প্রেসক্লাবে ঢুকেছি। সবসময় পুলিশের নজরদারির মধ্যে থাকতে হচ্ছে। বাসায়ও স্বস্তিতে থাকতে পারছি না।’

সংবাদ সম্মেলনে শাহজালালের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অ্যাড. মিনা মিজানুর রহমান। এ সময় শাহজালালের মা রেনু বেগম, বাবা মো. জাকির হোসেন, স্ত্রী রাহেলা বেগম, শিশুকন্যা আঁখি, মানবাধিকারকর্মী অ্যাড. মোমিনুল ইসলাম ও সাংস্কৃতিককর্মী শাহীন জামাল পণ উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাহজালাল আরও বলেন, ‘পুলিশ বিভিন্নভাবে মামলা করার পথে বাধা দিয়েছে। এখন আবার মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। পুলিশ যদি ঘটনার দিন থানা হাজতের সামনের সিসিটিভির রেকর্ড মুছে না ফেলে তাহলে ওই ভিডিও থেকেই প্রকৃত তথ্য পাওয়া সম্ভব। ওই রাতে হাজতে আটক থাকা অন্যরাও আমার বিষয়ে প্রকৃত তথ্য দিতে পারবে। কিন্তু এখন পুলিশ নানাভাবে ছলনার আশ্রয় নিচ্ছে। একবার চোখের চিকিৎসা করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আবার তা নাকচ করেছে।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৮ জুলাই মো. শাহজালাল পিরোজপুরের কাউখালি উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের বাড়ি থেকে খুলনা মহানগরীর খালিশপুর নয়াবাটি রেললাইন বস্তি কলোনির শ্বশুরবাড়িতে আসেন। ওইদিন রাত ৮টার দিকে শাহজালাল তার শিশুকন্যার দুধ কেনার জন্য বাসার পাশে গোয়ালখালী মোড় এলাকার দোকানে যায়। খালিশপুর থানার পুলিশ ওই এলাকা থেকে শাহজালালকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

Please follow and like us:
0

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

SuperWebTricks Loading...