প্রধান বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচার’র ১১ অভিযোগ

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস্‌ ॥ প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়।

শনিবার বিকালে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলামের স্বাক্ষরে বিবৃতিটি আসার আগে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা আপিল বিভাগ ও হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে বৈঠক করেন। ছুটি নিয়ে বিচারপতি সিনহা বিদেশে যাওয়ার আগে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাকে ‘বিভ্রান্তিমূলক’ আখ্যায়িত করা হয় সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিতে।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিলের রায় নিয়ে সমালোচনার মধ্যে সংসদে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছিল মন্ত্রীদের কাছ থেকে। এবার তার সহকর্মীদের মধ্য থেকেও একই অভিযোগ এল।

বিষয়টি প্রকাশের পর আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মতিন খসরু সাংবাদিকদের বলেছেন, বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করা হবে।

সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিতে বলা হয় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ৩০ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতিদের ডেকে নিয়ে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ‘১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ তুলে ধরেন। দীর্ঘ আলোচনার এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি মাননীয় প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্বলিত দালিলিক তথ্যাদি হস্তান্তর করেন। তন্মধ্যে বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনসহ আরও সুনির্দিষ্ট গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

ওই বৈঠকে বিচারপতি ইমান আলী ছাড়া আপিল বিভাগের অন্য চার বিচারক বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার ছিলেন। বিচারপতি ইমান আলী সেদিন ঢাকায় ছিলেন না।

বঙ্গভবনের বৈঠক থেকে ফিরে পরদিন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা নিজেরা বৈঠক করে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সহকর্মীরা সিদ্ধান্ত নেন যে গুরুতর অভিযোগগুলো প্রধান বিচারপতিকে জানানো হবে। তিনি যদি সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে তার সঙ্গে বিচারালয়ে বসে বিচারকাজ পরিচালনা সম্ভবপর হবে না।

ওই দিনই পাঁচ বিচারপতি প্রধান বিচারপতির হেয়ার রোডের বাড়িতে যান। তার সঙ্গে অভিযোগগুলো নিয়ে বিষদ আলোচনা করেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, “কিন্তু তার কাছ থেকে কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ও সুদত্তর না পেয়ে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি তাকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, এই অবস্থায় অভিযোগসমূহের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে তাদের পক্ষে বিচারকাজ পরিচালনা সম্ভবপর হবে না।

“এই পর্যায়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সুস্পষ্টভাবে বলেন যে সেক্ষেত্রে তিনি পদত্যাগ করবেন। তবে ২/১০/২০১৭ তারিখে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানান।”

কিন্তু এরপর বিচারপতি সিনহা সহকর্মীদের কিছু না জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাসের ছুটিতে যাওয়ার কথা জানান বলে বিবৃতিতে বলা হয়। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারক বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতির কার্যভার দেন রাষ্ট্রপতি।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর সংসদে প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করতে গিয়ে তার নানা ‘দুর্নীতির’ কথা বলেছিলেন দুই মন্ত্রীসহ কয়েকজন সংসদ সদস্য।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বিচারপতি সিনহার ভাইয়ের নামে রাজউকের প্লট নেওয়ায় অনিয়মের কথা সংসদে বলেছিলেন। যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথাও বলেছিলেন তিনি।

সংসদ সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মালিকানাধীন ব্যাংকে বেনামে বিচারপতি সিনহার অর্থ জমা রাখার কথা বলেছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের ‘দুর্নীতির’ তদন্ত আটকাতে প্রধান বিচারপতি সিনহার পদক্ষেপের সমালোচনা করেন।

Please follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

SuperWebTricks Loading...