খালাফ হত্যা মামলায় আপিলের ওপর পুনরায় শুনানি হবে

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস্‌ ॥ ঢাকায় সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ আল আলী হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের আপিলের ওপর পুনরায় শুনানি হবে সর্বোচ্চ আদালতে। মঙ্গলবার আলোচিত এ মামলায় আপিল বিভাগে রায়ের দিন থাকলেও তা প্রস্তুত না হওয়ায় এবং এক আসামির আইনজীবীর আবেদনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারকের আপিল বেঞ্চ নতুন করে শুনানি শুরুর জন্য ১৭ অক্টোবর দিন রেখেছে।

এর আগে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে তিন বিচারকের বেঞ্চে আলোচিত এ মামলার আপিল শুনানি হয়েছিল। ২০ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য ১০ অক্টোবর দিন রেখেছিল আদালত।

কিন্তু এরই মধ্যে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ছুটিতে যাওয়ায় তার কার্যভার পেয়েছেন বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা। আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারক মিলে একটি বেঞ্চে দৈনন্দিন আদালতের কার্যক্রম সারছেন।

খালাফ হত্যা মামলার রায়ের তারিখ থাকায় মঙ্গলবার বিষয়টি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আসে।

আদালত বসার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা রায় পেছানোর কথা জানিয়ে বলেন, “আমরা ভুলে গিয়েছিলাম।”

রাষ্ট্রপক্ষে এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাইফুল ইসলামের পক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড মাহমুদা বেগম আদালতকে বলেন, আইনজীবী না থাকায় তারা সাইফুলের পক্ষে আগে আপিল শুনানি করতে পারেননি। এখন একজন আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা পুনঃশুনানি করতে চান।

পরে আদালত পুনঃশুনানির জন্য ১৭ অক্টোবর তারিখ ধার্য করে দেয় বলে বিশ্বজিৎ দেবনাথ সাংবাদিকদের জানান।

২০১২ সালের ৫ মার্চ মধ্যরাতে গুলশানে নিজের বাসার কাছে গুলিবিদ্ধ হন সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা খালাফ আল আলী (৪৫)। পরদিন ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর পুলিশ গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে। আর সাড়ে চার মাস পর সাইফুল ইসলাম মামুন, আল আমিন, আকবর আলী, মো. রফিকুল ইসলাম নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের পরিচয় দেয়া হয় ‘ছিনতাইকারী’ হিসাবে।

তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। সেখানে গ্রেপ্তার চারজনের সঙ্গে সেলিম চৌধুরী নামে পলাতক আরেকজনকে আসামি করা হয়। ৩১ অক্টোবর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত।

আসামিদের মধ্যে আল আমীন হাকিম আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, সাইফুলসহ বাকি চারজন ওই রাতে খালাফকে ঘিরে ধরেন এবং তার কাছে ডলার চান।

“ডলার না দেয়ায় তাদের মধ্যে ধস্তাধাস্তি হয়। পরে সাইফুল তার হাতে থাকা রিভলবার দিয়ে খালাফকে গুলি করে পালিয়ে যান।”

ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোতাহার হোসেন ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর এ মামলার রায়ে পাঁচ আসামির সবাইকেই মৃত্যুদণ্ড দেন।

কিন্তু আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি করে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাই কোর্ট বেঞ্চ ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর যে রায় দেয়, তাতে কেবল সাইফুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দেওয়া হয়।

বাকি চার আসামির মধ্যে বিচারিক আদালতে ফাঁসির আদেশ পাওয়া আল আমীন, আকবর আলী ও রফিকুল ইসলামের দণ্ড কমিয়ে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পলাতক সেলিম চৌধুরী খালাস পান।

হাই কোর্টের রায়ে বলা হয়, অভিযুক্তরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ডাকাতি করতে ওই ঘটনা ঘটায়। হত্যাকাণ্ডের জন্য তারা সবাই দায়ী।
“আল আমিন ও খোকনের স্বীকারোক্তি অনুসারে দেখা যায়, পয়েন্ট ২২ বোরের রিভলবার দিয়ে সাইফুল ফায়ার করে। এতে তিনি আহত হয়ে পরে মারা যান।”

তবে সেলিমের বিরুদ্ধে তেমন কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ না থাকায় আদালত তাকে খালাস দেয় বলে সে সময় জানিয়েছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোরশেদুল আলম।

হাই কোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল বিভাগে শুনানি শেষে তা চূড়ান্ত রায়ের পর্যায়ে এলেও আবার তা পিছিয়ে গেল।

হাই কোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাইফুলের বাড়ি বাগেরহাট জেলার শরণখোলার মধ্য খোন্তাকাটা গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল মোতালেব হাওলাদার।

ফারুক ঘরামীর ছেলে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি আল আমিনের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার হাজিখালী গ্রামে। আকবর আলী লালুর বাড়ি শরিয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার গোয়ালকোয়া গ্রামে। তার পিতার নাম আব্দুল জলিল।

রফিকুল ইসলাম খোকনের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানার নাটকঘর বাইলেনে। তার পিতার নাম আব্দুস সালাম।

খালাসপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সেলিমের বাড়ি ভোলা জেলার শশীভূষণ থানার উত্তর চরমঙ্গলে। তার বাবার নাম সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী।

Please follow and like us:
0

Related posts

Leave a Comment