শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস ॥ নারায়ণগঞ্জে বন্দরের এক শিক্ষিকাকে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তিনি নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম (তৃতীয়) আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া শ্যামল কান্তির উপস্থিতিতে শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন করেন। আগামী ১২ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘শ্যামল কান্তি ভক্তকে হয়রানি করার জন্য এই মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন। আমরা এতে সংক্ষুব্ধ ও ব্যথিত। আমরা ন্যায়বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করব।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ঘুষের মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

ঘুষের মামলায় অভিযোগ গঠন প্রসঙ্গে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত বলেন, ‘সেলিম ওসমান তাঁর বিরুদ্ধে মামলা থেকে রেহাই পেতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। আমি একজন শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও আমাকে লাঞ্ছিত করার পর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি এবং ন্যায়বিচার চাই।’

২০১৬ সালের ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কল্যান্দীতে অবস্থিত পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। এরপর স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশে তাঁকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলে সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ওই বছরের ১৪ জুলাই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, শিক্ষার্থী রিফাতকে মারধর ও শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তিনজন বাদী নারায়ণগঞ্জ আদালতে তিনটি মামলার আবেদন করেন। আদালত ওই দিন বিকেলে শুনানি শেষে প্রথম দুটি মামলা খারিজ করে দেন। আর বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষিকা মোর্শেদা বেগমের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের মামলাটি পুলিশকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

ওই মামলায় পুলিশ চলতি বছরের ২৪ মে শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করলে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই দিন তিনি বিকেলে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠান।

গত ৩১ মে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালত ২০ জুলাই পর্যন্ত শ্যামল কান্তি ভক্তের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করলে তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হন। ১৩ জুলাই শ্যামল কান্তি ভক্তের ঘুষ গ্রহণের মামলাটি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের (গ) বিচারক আফতাব উদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়।

Please follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

SuperWebTricks Loading...