বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় ছাত্রলীগের ৪ জন খালাস, দণ্ড কমলো ৪ জনের

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস ॥ বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পাশাপাশি বাকি আসামিদের মধ্যে ১৫ জনের যাবজ্জীবন ও ৪ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রবিবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদার। আর খালাস পাওয়া চার জন হলেন- সাইফুল ইসলাম, কাইয়ুম মিঞা টিপু, এ এইচ এম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা। খালাসপ্রাপ্ত চারজনই বিচারিক আদালতে রায়ের সময়ে কারাগারে ছিলেন। বাকি আসামিরা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। আগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে যে দু’জন আপিল করেছিলেন, তারা খালাস পেয়েছেন। তাদের মধ্যে যে ১১ আসামি পলাতক, তাদের ব্যাপারে আদালত কোনও মন্তব্য করেননি।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর তদানীন্তন বিরোধীদলের অবরোধ কর্মসূচি ঠেকাতে সরকারি দলের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগও ছিল মাঠে। সেদিনই শিবির কর্মী সন্দেহে পুরনো ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় বিশ্বজিৎ দাসকে। এ মামলার আসামিরা সবাই ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্রলীগ কমিটির নেতা ও কর্মী। যদিও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরই সেটা অস্বীকার করে বলেছেন, এ ঘটনায় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নয়।

হাইকোর্টের রায়ে খালাস পাওয়া সাইফুল ইসলাম, কাইয়ুম মিঞা টিপুকে বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল, বাকি দুজন এ এইচ এম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তাফাকে দেওয়া হয়েছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম শাকিল এবং রাজন তালুকদারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে। অপরদিকে, মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জিএম রাশেদুজ্জামান শাওন এবং নূরে আলম লিমনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের এক বছর পর দায়ের করা মামলার বিচার শেষে ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার চার নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক। রায়ের এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা। রায় ঘোষণার দিন খালাস পাওয়া এ চারজনই এজলাসেই উপস্থিত ছিলেন।

মামলার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক, নূরে আলম লিমন, রফিকুল ইসলাম শাকিল ও ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ওবায়দুল কাদের, নূরে আলম লিমন এবং রফিকুল ইসলাম শাকিলকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয় এবং এমদাদুল হক ও মাহফুজুর রহমানের সনদ বাতিল করে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, চলতি বছরের ১৬ মে বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিতকরণ) ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল শুনানি শুরু হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি। আর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত হয়।

Please follow and like us:
0

Related posts

Leave a Comment