হাওর দুর্নীতি: ৬১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস ॥ সুনামগঞ্জের হাওরের হাজার কোটি টাকার ফসলহানির ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তা, ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) ৬১ জনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর থানায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পাউবোর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছার উদ্দীন এবং মেসার্স ইব্রাহিম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. বাচ্চু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে দুদক।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় আজ রোববার দুপুরে মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমদ।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল্লাহ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলায় পাউবোর ১৫ জন কর্মকর্তাসহ বাঁধের কাজের ঠিকাদার ও পিআইসির লোকজনকে আসামি করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জে পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান জানান, মামলাটি দুদকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তারাই মামলাটি তদন্ত করবে।

সুনামগঞ্জে গত এপ্রিল মাসের পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৫৪টি হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে যায়। হাওরে ফসলহানির পর ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এরপর দুদক গত ১৩ এপ্রিল হাওরের ফসলহানি ও বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের তদন্তে দুদকের পরিচালক বেলাল হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে। এরপর ১৫ এপ্রিল পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছার উদ্দিনকে সুনামগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ফসলহানির ঘটনায় ৩০ মে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ২ মে পাউবোর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (উত্তর-পূর্বাঞ্চল) মো. আবদুল হাই, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম ও সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আফছার উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মামলায় এই তিন প্রকৌশলীকেও আসামি করা হয়েছে।
আজ পাউবোর যে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সুনামগঞ্জের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস এবং সুনামগঞ্জের আরেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী খলিলুর রহমান।
মামলার পাউবোর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, ঠিকাদারদের সঙ্গে অবৈধ যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়েছে। আর ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ঠিক সময়ে কাজ শেষ না করে কৃষকদের ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনে হিসাব অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে এবার ১৫৪টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৮২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬১২ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার ৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৯০ কৃষক পরিবার। তবে স্থানীয় কৃষক-জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, হাওরের ৯০ শতাংশ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কৃষকেরা হাওরের ফসল হারিয়ে এখন নিঃস্ব, দিশেহারা।

Please follow and like us:
0

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

SuperWebTricks Loading...