মিঠাপুকুরের ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস ॥ রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার ১৩ নং গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম (দিলিপ পাইকার)-এর বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি হরণ ও বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সরকারি রাস্তার গাছ বিক্রির টাকা এবং স্থানীয় সরকারী স্কুল ও মাদ্রাসার নামে বরাদ্ধকৃত সরকারী উন্নয়নমূলক কাজের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।

যথাক্রমে-সরকারী ২০১৫-২৯১৬ইং অর্থঊয়রের এলজিএসপি-২ বিবিজি, পিবিজি ও ২০১৫-২০১৬ ইউপিজিপির স্থাবর সম্পত্তির ১% করের, ২০১৬-২০১৭ ইং বছরের ১% করের টাকা এবং ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের ইউজিপি বরাদ্দের সম্পূর্ণ ও ও সরকারী রাস্তার গাছ কাটার ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।

ইউপি চেয়ারম্যান এককভাবে উল্লেখিত সরকারী বরাদ্দকৃত এলজিএসপি-২ এর ১৬,০৩৭২৭/- ষোল লক্ষ তিন হাজার সাতশত সাতাইশ) টাকা বরাদ্দ হিসেবে গ্রহণ করে। কিন্তু ইউপিজিপি বরাদ্দ ১,৭৯০০০/- টাকার মধ্যে ২নং কলামে পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষার জন্য গোপালপুর ইউনিয়নের ইউক্যলিপটাস গাছ, ফলদ এবং বনজ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা সরবরাহ ও পরিচর্যা না করিয়া ০-১-০২ কিস্তির ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা আত্মসাত এবং ৪নং এর (ক) গোপালপুর ইউনিয়নের বাগেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র/ছাত্রীদেও বসার জন্য উচুনিচু বেঞ্চ সরবরাহ ৮ সেট, এবং ৬নং ওয়ার্ডেও রাঙ্গাপুকুর সবুজের বাড়ির দক্ষিণে রাস্তার পাশ দিয়ে অসমাপ্ত পাকা ড্রেন সমাপ্তকরণ-৬৫ ফুট ও রাস্তার পশ্চিম পার্শ্বে প্যালাসাইড নির্মাণ হাফিজারের পুকুর সংলগ্ন-৪০টি প্রঅরাসাইড স্থাপন এর ৮৫,০০০/- (পঁচাশি হাজার) টাকা আত্মসাত।

(খ) গোপালপুর ইউনিয়নে ইউপি অফিসে ১টি ল্যাবটপ ক্রয় ও লেজার প্রিন্টার, স্ক্যানার, লেমিনেটিং মেশিন ক্রয় ও সরবরাহ এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ল্যাব কেন্দ্রের মেরামত ও মালামাল ক্রয়ের ১,২০,০০০/- (এক লক্ষ বিশ হাজার) টাকা আত্মসাত। ৬নং কলামের গোপালপুর ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (ছাত্র-ছাত্রীদেও ক্লাস রুমে ভিশন ফ্যান সরবরাহ (মাধ্যমিক/দাখিল মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০টি ফ্যান সরাবহ)।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম : ১। গোপালপুর হামিদিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪টি, ২। গোপালপুর হামিদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫টি, ৩। শাল্টিপাড়া সরকারী প্রা: বিদ্যালয় ৪টি, ৪। চিলাখাল সরকারী প্রা: বিদ্যালয়ে ৪টি, ৫। গোপিনাথপুর সরকারী প্রা: বিদ্যালয়ে ৪টি, ৬। ধাপশ্যামপুর খয়রাতিয়া ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসা ৫টি, ৭। গোকর্ণ সরকারী প্রা: বিদ্যালয়ে ৪টি। বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ৯০,৪৯৬/- (নব্বই হাজার চারশত ছিয়ানব্বই) টাকা। ৭নং এ কলামে গোপালপুর ইউনিয়নের মাধ্যমিক স্কুল দাখিল মাদ্রাসা ও নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য সমম্মত স্যানেটারী ন্যাপকিন সরবরাহ (লাবন্য প্রকল্প) বরাদ্দ ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা। ৮ নং এ গোপালপুর ইউনিয়ন মরিচবাড়ী খালেকের জমি সংলগ্ন রাস্তার পার্শ্বে পূর্ব দিকে রাঙ্গাপুকুর সৈয়দের বাড়ির পার্শ্বে রাস্তার পূর্ব দিকে পুকুর সংলগ্ন গোপীনাথপুর মোনতাজের বাড়ির দক্ষিণে ও পশ্চিম দিকে জাফরের বাড়ির পার্শ্বে পূর্ব দিকে সেলিম মাস্টারের বাড়ির পূর্ব দিকে রাস্তার পশ্চিম দিকে উল্লেখিত স্থানসমূহে পুকুর সংলগ্ন রাস্তার পাশ দিয়ে প্যালাইসড স্থাপন-৩০০টি পিলারসহ বরাদ্দ ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা। ৯নং এ গোপালপুর ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের প্রজেক্টও, ২টি সাউন্ড সিস্টেম এবং ট্যাব ও ভিডিও ক্যামেরা ক্রয় সরবরাহসহ দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধী ও দৃষ্টিহীন বৃদ্ধেও জন্য শ্রবণ সহায়ক যন্ত্র-২০টি ও সাদা ছড়ি-২০টি ও চশমা-১০০টি ক্রয় সরবরাহে বরাদ্দ ১,৪০,০০০/- (এক লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা আত্মসাত। এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিঠাপুকুর রংপুর হইতে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের ইউপিজিপি দক্ষতা ভিত্তিক বরাদ্দ ৯২,০৩৫/- (বিরানব্বই হাজার পয়ত্রিশ) টাকা। যাহা গোপালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে/বিদ্যালয়ে আসবাবপত্র (উচুনিচু বেঞ্চ) সরবরাহের জন্য বরাদ্দ ছিল। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিঠাপুকুর রংপুর হইতে ২০১৫-২০১৬ ও ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের স্থাবর সম্পত্তির ১% করের কিস্তির ৬৯,২৫৫/- (উনসত্তর হাজার দুইশত পঞ্চান্ন) টাকা উত্তোলনসহ প্রকল্প ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি অনুমোনদসহ ১০নং গোপালপুর ইউনিয়নের মাধ্যমিক ও স্কুল ও দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রীদেও জন্য স্বাস্থ্য সম্মত স্যানেটারি ন্যাপকিন (লাবন্য) প্রকল্পের জন্য মালামাল ক্রয়ের জন্য বরাদ্দকৃ টাকা সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে আত্মসাত করে।

উক্ত বরাদ্দকৃত টাকার হিসাব চাহিলে চেয়ারম্যান জনাব আমিরুল ইসলাম (দিলিপ পাইকার) হিসাব দিতে টালবাহানা শুরু করতে থাকে। ইহাতে প্রতিয়মান হয় যে, উল্লেখিত বরাদ্দকৃত টাকা সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে আত্মসাত করিয়াছেন। সরকারী রাস্তার গাছ বিক্রির ১০ লাখ টাকা আত্মসাত করে সরকারের সাথে প্রতারণা ও জনসাধারণের ক্ষতি সাধণ করে। এতে করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। আর্থিক ক্ষতি হয় সরকারের রাজস্ব। এমনিভাবে সরকারি সম্পত্তি ও জনগণের সাথে প্রতারণা কওে যাচ্ছে এই ইউপি চেয়ারম্যান। এলাকার স্থানীয় জনগণ তার প্রতিনিধির বিচার চায়। এলাকার স্থানীয় মেম্বার ও ইউপি সদস্যবৃন্দ উক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পায়নি। এমতাবস্থায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, এলজিইডি, জেলা প্রশাসক, রংপুর দুর্নীতি দমন কমিশন, রংপুর ও উপজেলা প্রশাসন মিঠাপুকুরেও এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়। এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে নারাজ।

এ বিষয় নিয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুন উর রশিদ বলেন, এ বিষয়ে আমাদের নিকট অভিযোগ এসেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এক্ষণে, সরকারী গাছ বিক্রির টাকা আত্মসাত ও মালামাল আত্মসাতের জন্য তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক।

Please follow and like us:
0

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

SuperWebTricks Loading...