স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ গুম করে বিদেশে পালানোর চেষ্টা

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস ॥ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় সীমা আক্তার (২৪) নামের এক গৃহবধূকে তাঁর সৌদিপ্রবাসী স্বামী হত্যার পর লাশ গুম করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর সীমার স্বামী মিজান খন্দকার (৩৪) বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এক বন্ধুর সহযোগিতায় গত শনিবার বিকেলে ঢাকার মতিঝিল থানার পুলিশ মিজান খন্দকারকে গ্রেপ্তার করে।

সীমার পরিবার সূত্র জানায়, গত ৩০ মার্চ রাত তিনটায় রাজাপুর উপজেলার সাউথপুর গ্রামে মিজান খন্দকারের বন্ধু এনায়েত গোমস্তার বাড়িতে সীমাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার তিন দিন পার হলেও গতকাল সোমবার পর্যন্ত সীমার লাশ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

রাজাপুর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস জানান, এ ঘটনায় গৃহবধূ সীমার বড় ভাই মাজেদুল ইসলাম বাদী হয়ে মিজান খন্দকারসহ চারজনকে আসামি করে গত রোববার রাজাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন মিজান খন্দকারের ছোট ভাই সবুজ খন্দকার, তাঁর বোন শাহনাজ বেগম ও ভগ্নিপতি মিজান হাওলাদার। নিহত সীমা মিজান খন্দকারের দ্বিতীয় স্ত্রী। রাজাপুর থানার পুলিশ মিজান খন্দকারের ভগ্নিপতি মিজান হাওলাদারকেও গত রোববার রাতে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া মিজান খন্দকারের বন্ধু এনায়েত গোমস্তা ও মিজানের মা দেলোয়ারা বেগমকেও রোববার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজাপুর থানায় নেয় পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে এই প্রতিবেদন লেখার সময় তাঁরা থানা-হেফাজতে ছিলেন।

তবে মিজান খন্দকার ও মিজান হাওলাদারকে গতকাল সোমবার বিকেলে ঝালকাঠি আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে থানায় জিজ্ঞাসাবাদে মিজান জানিয়েছেন, সীমাকে হত্যার পরে লাশ রাজাপুরের বিষখালী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ খবর শুনে সীমার স্বজনেরা বিষখালী নদীর তীরবর্তী এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।
রাজাপুর বিচারিক হাকিম বেগম রুবাইয়া আমেনার আদালতে আসামিরা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। বিচারক তাঁদের জেলহাজতে পাঠান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে পিরোজপুর জেলার খামকাটা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত আমজেদ হোসেনের মেয়ে সীমা আক্তারের সঙ্গে রাজাপুর বাঁশতলা গ্রামের কাশেম খন্দকারের ছেলে সৌদিপ্রবাসী মিজান খন্দকারের বিয়ে হয়। মিজানের প্রথম পক্ষের স্ত্রী থাকায় সীমা শ্বশুরবাড়িতে কখনো আসেননি।
গত ২৮ মার্চ রাজাপুরে আলাদা বাড়িভাড়া করা হয়েছে বলে সীমাকে তাঁর বাবার বাড়ি পিরোজপুর থেকে রাজাপুরে নিয়ে আসেন মিজান খন্দকার। ৩০ মার্চ সীমা সর্বশেষ মুঠোফোনে তাঁর ভাই বাদশা মিয়াকে জানান, তিনি বিপদের মধ্যে আছেন। এরপর সীমার আর কোনো খবর পায়নি তাঁর পরিবার। এর দুই দিন পর ১ এপ্রিল পিরোজপুর থানা-পুলিশ ঢাকার মতিঝিল থানা-পুলিশের বরাত দিয়ে জানায়, সীমাকে হত্যা করা হয়েছে এবং স্বামীকে তাঁর বন্ধু এনায়েত গোমস্তার সহযোগিতায় মতিঝিল থানার পুলিশ আটক করেছে।

রাজাপুর থানার পুলিশ সূত্র জানায়, সীমাকে হত্যা করার পর তাঁর স্বামী মিজান খন্দকার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তাঁর বন্ধু এনায়েত গোমস্তার সহযোগিতায় মতিঝিল থানা-পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হন মিজান। তাঁকে রোববার রাতে রাজাপুর থানায় আনা হয়। এনায়েত গোমস্তা ও মিজান দুজনেই সৌদিপ্রবাসী এবং সেই সুবাদে তাঁরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। হত্যার পর মৃতদেহ ওই রাতেই এনায়েত গোমস্তার বাড়ি থেকে মিজান খন্দকারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে সহায়তার অভিযোগে মিজান খন্দকারের ভগ্নিপতি মিজান হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিজান হাওলাদার একজন অটোরিকশাচালক।

অটোরিকশাচালক মিজান হাওলাদার রাজাপুর থানা-হাজতে গতকাল সোমবার বলেন, ‘সীমা অসুস্থ এই কথা বলে রাত চারটার দিকে আমাকে অটোরিকশা নিয়ে এনায়েত গোমস্তার বাড়িতে আসতে বলেন মিজান খন্দকার। সেই রাতেই অটোরিকশাযোগে সীমাকে উপজেলার সাউথপুর থেকে মিজানের বাড়ি বাঁশতলায় নিয়ে যাই। এরপর আমার আর কিছু জানা নেই।’

Please follow and like us:
0

One thought on “স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ গুম করে বিদেশে পালানোর চেষ্টা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

SuperWebTricks Loading...