নব্য জেএমবির অর্থদাতা আব্দুর রহমান মারা গেছে

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস॥ নব্য জেএমবির মূল অর্থদাতা আব্দুর রহমান আহতাবস্থায় সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। আব্দুর রহমান রাত পৌনে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

সাধারণ নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার। ছদ্মবেশ ছিল ঠিকাদারের। কিন্তু এর আড়ালে মূলত সে জঙ্গিদের অর্থ সংগ্রহ ও জোগান দেওয়ার কাজ করতো। তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে একটি তালিকা। সেখানে কার কাছে কত টাকা দেওয়া হয়েছে, তাও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সরাসরি নাম ব্যবহার না করে লেখা রয়েছে ‘কোড’। কোড নামগুলোর পাশে কোথাও ৫০ হাজার কোথাও এক লাখ পরিমাণ টাকার অঙ্ক লেখা রয়েছে। এই ব্যক্তির নাম আব্দুর রহমান (৩৫)।

এর আগে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আশুলিয়ায় একটি বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই বাড়ির ৫ তলার গ্রিল কেটে লাফিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে আব্দুর রহমান। এসময় সে গুরুতর আহত হলে র‌্যাব সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করে চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করে।

এছাড়া রাত ন’টার দিকে ওই বাড়ি থেকে আব্দুর রহমানের রহমানের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার রুমি ও বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী তারেককে আটক এবং একটি বিদেশি পিস্তল, ২০ রাউন্ড গুলি, নগদ ৩০ লাখ টাকা, ৫টি ছুরিসহ বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে আশুলিয়ার বসুন্ধরাটেক এলাকার আমির মৃধা শাহিনের বাড়ির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব সদর দফতরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ ।

র‌্যাব সূত্র জানান, প্রায় দুবছর ধরে জঙ্গি আব্দুর রহমানকে অনুসরণ করে আসছিলেন র‌্যাব সদস্যরা। আব্দুর রহমান কয়েক দিন পর পর বিভিন্ন এলাকায় বাসা পরিবর্তন করায় তাকে গ্রেফতার করতে বিলম্ব হয়েছে। শনিবার দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে র‌্যাবের একটি দল আশুলিয়ার বসুন্ধরাটেক এলাকার আমির মৃধা শাহিনের বাড়িতে এই অভিযান চালায়।

র‌্যাব কর্মকর্তাদের ধারণা, কোডগুলো ছোট-ছোট একেকটি জঙ্গি দলের। সাংগঠনিক নির্দেশনা অনুযায়ী সে অর্থ সংগ্রহের পর নব্য জেএমবির সদস্যদের জন্য তা বিতরণ করতো। এসব অর্থ দিয়ে জঙ্গিদের দৈনন্দিন থাকা-খাওয়ার খরচসহ অস্ত্র ও বিস্ফোরক কেনার জন্যও ব্যবহার করা হতো।

র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘তার লেখা কোডগুলোর অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এসব অর্থ উদ্ধার করতে পারলে তার সহযোগীদের গ্রেফতার করা যাবে।’

র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান এই কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল আব্দুর রহমান। পাঁচ তলা থেকে পাইপ বেয়ে নামতে গিয়ে আহত হয়েছে। বর্তমানে র‌্যাব পাহারায় তাকে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে আরও অনেক তথ্য উদ্ধার করা যাবে।’

Please follow and like us:
0

Related posts

Leave a Comment