টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে জঙ্গিবাদ দমন করতে হবে

ক্রাইম নিউজ সার্ভিসঃ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে জঙ্গিবাদ দমন করতে হবে। কারণ, উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অত্যাবশ্যকীয়। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) সম্মেলনকক্ষে ‘গ্লোবাল সিটিজেন ফোরাম অন সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট’ বাংলাদেশ সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মনজুরুল ইসলাম, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন, গ্লোবাল সিটিজেন ফোরাম অন সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট এর সদস্য সচিব ড. মো. শামীম হায়দার তালুকদার প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, জঙ্গি কর্মকান্ড মোকাবেলায় সাংস্কৃতিক বিকাশ ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা জরুরী। সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর মাধ্যমে জঙ্গিবাদের ভ্রান্ত ধারণা মোকাবেলা করা সম্ভব।এজন্য তিনি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পক্ষে মত দেন।
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে উন্নয়ন কার্যক্রমে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও কর্মক্ষম নারীদের অংশগ্রহণ আরো বাড়াতে হবে। এখনও দেশের প্রায় ৩৫ শতাংশ কর্মক্ষম নারীকে আমরা অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করতে পারেনি। বিপুলসংখ্যক এই জনগোষ্ঠীকে বাদ রেখে উন্নয়ন টেকসই করা যাবে না।
সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে ইনু বলেন, প্রবৃদ্ধি যতই বাড়ুক, সমাজে যদি বৈষম্য এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী থেকে যায়, তাহলে সেই উন্নয়ন প্রকৃত উন্নয়ন নয়। গরীব মানুষকে উন্নয়নের স্রোতে আনতে হবে। তিনি বলেন, সরকার এ লক্ষে সামাজিক নিরাপত্তা বলয় বাড়ানোর পাশাপাশি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে গরীবরা সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে এখন উন্নয়নের বড় হাতিয়ার বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সর্বত্র এখন টেকসই সবুজ উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে। তবে পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধির জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এর জন্য ইন্টারনেট সেবার চার্জ কমানোর প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি দেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডকে আরো অংশগ্রহণমূলক করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা অধিকতর শক্তিশালী করার পক্ষে অভিমত দেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে উপযুুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে কোন উন্নয়নই টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। এজন্য টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে জলবায়ু পরিবর্তন ও তার প্রভাব মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরী।
চতুর্থবারের মত বাংলাদেশে এই সম্মেলন হচ্ছে। এবারের দু’দিনব্যাপী সম্মেলনে বিষয়ভিত্তিক ৭টি কারিগরিসহ মোট ৯টি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এসব সেশনে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তুলে ধরা হবে।

এই সংক্রান্ত আরো নিউজ

Leave a Comment