গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শাখার ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস: দুজন গ্রাহকের এফডিআরের (স্থায়ী আমানতে সুদের হার) ১১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার শাখার ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার দুপুরে দুদকের কর্মকর্তারা ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক শওকত ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন।

এর আগে গত শনিবার রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়-২-এর উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল্লাহ বাদী হয়ে শওকত ইসলাম ও ব্যবসায়ী হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করেন। শওকত ইসলামের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল গ্রামে। তিনি আগে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের কক্সবাজার শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন। হামিদুর রহমানের বাড়ি কক্সবাজার পৌরসভার উত্তর টেকপাড়ায়। তাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে কক্সবাজার শহরের চৌধুরী পাড়ার ব্যবসায়ী বদিউল আলম ও তাঁর স্ত্রী লুৎফুন নাহারের পৃথক দুটি এফডিআরের ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

বদিউল আলম জানান, ২০১০ সালের ৪ আগস্ট আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের কক্সবাজার শাখায় নিজের নামে ৭ লাখ টাকার একটি এবং একই বছরের ২০ অক্টোবর তাঁর স্ত্রী লুৎফুন নাহারের নামে ৪ লাখ টাকার আরেকটি পৃথক এফডিআর করেন। কিন্তু বিনা অনুমতিতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শওকত ইসলাম ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর দুটি এফডিআরের ১১ লাখ টাকা হামিদুর রহমানের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আয়েশা কনস্ট্রাকশনকে পরিশোধ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেন। এর প্রতিকার চেয়ে তিনি দুদকে অভিযোগ করেছিলেন।

দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল্লাহ বলেন, অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দুদক মামলা করে। গ্রাহকের রক্ষিত এফডিআরের টাকা আত্মসাৎ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মামলার আরেক আসামি হামিদুর রহমানকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন জানান, এফডিআরের ১১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংক ব্যবস্থাপকসহ দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত শনিবার রাতে থানায় মামলা করেছে দুদক। এই মামলার তদন্তও করছে দুদক।

Please follow and like us:
0

Related posts

Leave a Comment