পুলিশের জঙ্গি বিরোধী অভিযানে পলাতক মামলার আসামী আটক

পুলিশ

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস: জঙ্গি দমনে দেশজুড়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান শুরুর পর প্রথম ছয় ঘণ্টায় বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েকশ ব্যক্তিকে আটকের খবর এসেছে, যাদের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিরাও রয়েছেন।

পুলিশ সদরদপ্তর বলছে, শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান আগামী সাত দিন চলবে।

চট্টগ্রামে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী খুন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এই ‘সাঁড়াশি অভিযান’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।

এর অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকাতেও রাস্তার মোড়ে মোড়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সকাল থেকে ‘অনেককে; আটকের কথা জানালেও সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বলেননি।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ আকবর আলী জানান, অভিযানে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর চারজনসহ মোট ২৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর চারজনকে আটক করা হয় মহেশপুর উপজেলা থেকে। অন্যরা বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি বলে জানান পুলিশ সুপার।

দিনাজপুরের পুলিশ কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত কনস্টেবল মোশাররফ হোসেন জানান, জেলার ১৩ উপজেলা থেকে জামায়াত-শিবিরের দুই কর্মীসহ ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে দুপুর পর্যন্ত।

জামায়াত-শিবিরের দুই কর্মী ছাড়া অন্যরা বিভিন্ন মামলার আসামি বলে তিনি জানান।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন জানান, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত জেলার সাত থানা থেকে জামায়াত-শিবিরের ছয় নেতা-কর্মীসহ মোট ৬৭ জনকে তারা আটক করেছেন।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের এসআই কামাল হোসেন বলেন, তার জেলায় শুক্রবার সকাল থেকে ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

রাজশাহীতে আটক হয়েছেন ৩৪ জন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত তাদের আটক করা হয়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও রাজপাড়া থানা জোনের সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, নগরীতে মোট ৩১ জন আটক হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জন বিভিন্ন মামলার আসামি। অপর ১৬ জন মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবী।

বিশেষ অভিযানের প্রথম দিনে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট কাউকে রাজশাহীতে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

রাজশাহীর অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, দুর্গাপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার দুই আসামি ও পুঠিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছেন তারা।

মাগুরায় আটক হয়েছেন ২৪ জন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের আটক করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার এহসান উল্লাহ জানান, জেলার চার উপজেলা থেকে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা বিভিন্ন মামলার আসামি।

টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের দায়িত্বে থাকা সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, জেলার ১২টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযানের প্রথম দিন দুপুর পর্যন্ত ৬৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

তাদের মধ্যে বিভিন্ন মামলার আসামিও রয়েছেন বলে জানান তিনি।

সিলেটে সাঁড়াশি অভিযানের অংশ হিসেবে সিলেট জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৬১ জনকে আটক করার খবর জানিয়েছেন পুলিশ।

জেলা পুলিশের এএসপি (মিডিয়া) সুজ্ঞান চাকমা জানান, জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তারা ৫১ জনকে আটক করেছেন, যারা বিভিন্ন মামলার আসামি। আর মহানগর এলাকা থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে নগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) রহমত উল্লাহ জানিয়েছেন।

এই সংক্রান্ত আরো নিউজ

Leave a Comment