আহমদিয়া মসজিদে বোমা বহনকারী শনাক্ত ।। সহযোগী নিহত

ক্রাইম নিউজ সার্ভিস: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার সৈয়দপুর চকপাড়া গ্রামের আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদে বোমা হামলার ঘটনায় নিহত যুবকের পরিচয় মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, নিহত যুবকই বোমা বহনকারী ছিলেন। তাঁর মাকে আটক করা হয়েছে। বোমা বহনকারীর সহযোগী আরেক যুবক সোমবার দিবাগত রাতে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

গত ২৫ ডিসেম্বর ওই মসজিদে জুমার নামাজের সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে এক যুবক নিহত হন। গুরুতর আহত হয় শিশুসহ তিন মুসল্লি। পরিচয় না মেলায় যুবকের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে রাজশাহী শহরের হেতেম খাঁ কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তিকে আসামি করে বাগমারা থানায় একটি মামলা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, মসজিদে বোমা হামলায় নিহত যুবকের নাম তারেক আজিজ (২২)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র ছিলেন। তাঁর বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলার রূপনগর গ্রামে। বাবার নাম আবু সালেক (৫৫)। পুলিশ তাঁদের বাসা থেকে বাবা ও ছেলের পাসপোর্ট এবং সাংগঠনিক বই উদ্ধার করেছে। এতে দেখা গেছে, আবু সালেক জামায়াতের রোকন ছিলেন। রাজশাহীর তানোরের কালিগঞ্জে তাদের একটি বাগানবাড়ি রয়েছে।

পুলিশ তারেক আজিজের মা তাসলিমা খাতুনকে আটক করেছে। পুলিশ বলছে, গোদাগাড়ী থানায় জিজ্ঞাসাবাদে মা স্বীকার করেছেন, ছেলের মারা যাওয়ার খবর তিনি জানেন। ভয়ে প্রকাশ করেননি।

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আবু ফরহাদের ভাষ্য, মসজিদে বোমা হামলার সময় তারেক আজিজের সঙ্গে ছিলেন শিবগঞ্জের কালিনগর-লক্ষ্মীপুর গ্রামের তাবজুল হকের ছেলে জামালউদ্দিন (২৫)। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য। গতকাল সোমবার রাত ১১টার দিকে গোদাগাড়ীর বাবুডাইংয়ের দুর্গম এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। রাত তিনটার দিকে পুলিশ জামালউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে গোদাগাড়ীর ফরাদপুর এলাকায় তাঁর এক সহযোগীকে আটক করতে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জামালের সহযোগীরা গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। সেখানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জামাল নিহত হন। তাঁর লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি পিস্তল, একটি রামদা ও দুটি গুলি উদ্ধার করেছে।

ওসি আবু ফরহাদ বলেন, জামাল বলেছিলেন, তিনি বিএসসিতে পড়েন। কোন কলেজে পড়েন তা জানাননি। জামালের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ তারেক আজিজের বাড়িতে যায়।

গত ৫ মে রাজশাহীর পুলিশ সুপার নিশারুল আরিফ সংবাদ সম্মেলন করে আহমদিয়া মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে নিহত যুবকের পরিচয় এবং তাঁর সহযোগীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে। দুজনের পরিচয় জানালে এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ।

Please follow and like us:
0

Related posts

Leave a Comment