ঋণ জালিয়াতির মামলার প্রথম রায়ে ৩ কর্মকর্তার যাবজ্জীবন

ক্রাইম নিউজ সার্ভিসঃ সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় করা একটি মামলায় মঙ্গলবার রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে সোনালী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকার বিশেষ জজ-৫–এর বিচারক আখতারুজ্জামান এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন সোনালী ব্যাংকের সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক সাইফুল হাসান (৫৪), প্যারাগন নিট কম্পোজিট লিমিটেডের পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন (৩১) ও প্যারাগনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম (৩৮)। তবে আসামিরা বর্তমানে পলাতক। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

হল–মার্ক জালিয়াতির ঘটনার সময় সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল (সাবেক শেরাটন হোটেল) শাখা থেকে হল–মার্ক ছাড়াও আরও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান একই কায়দায় ঋণ জালিয়াতি করেছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়। প্যারাগন নিট কম্পোজিট লিমিটেড সেই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের একটি। সেই হিসেবে বলা যায়, সোনালী ব্যাংকের সবচেয়ে বড় ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় করা মামলাগুলোর মধ্যে এই প্রথম কোনো একটির রায় হলো।

মামলার নথি অনুযায়ী, ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের ২ কোটি ২২ লাখ ৭৮ হাজার ৬১০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে এ টাকা আত্মসাৎ করেন।
২০১৩ সালের ২৮ মে দুদকের সহকারী পরিচালক নাজমুচ্ছাদাত বাদী হয়ে রমনা থানায় এ মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ১১ জুন দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। চার আসামির মধ্যে সোনালী ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম এ কে এম আজিজুর রহমান মারা গেছেন।

দুই আসামির মধ্যে কারাবন্দি মোসলেমকে এদিন অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হয়। অন্য আসামি সৈয়দ হোসাইন পলাতক। তিনি যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হাসান আলীর ছোট ভাই।

অভিযোগ গঠনের শুনানিতে অভিযোগ পড়ে শুনিয়ে বিচারক মোসলেমের কাছে জানতে চান তিনি দোষী না নির্দোষ। এ সময় মোসলেম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সুবিচার চান।

শুনানি শেষে আদালত দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত দেন। আসামিপক্ষে শুনানি করেন আবদুস সাত্তার পালোয়ান।

২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ দুই আসামির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তদন্ত করেন প্রসিকিউশনের তদন্ত কর্মকর্তা হরি দেবনাথ।

পরে তিনি ট্রাইব্যুনালে যে অভিযোগপত্র দেন, তাতে দুই আসামির বিরুদ্ধে ছয় ঘটনায় ৬২ জনকে হত্যা, ১১ জনকে অপহরণ ও আটকে রাখা, ২৫০টি বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে মোট ৪৭ জনকে।

ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে গতবছর ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কামারহাটি গ্রাম থেকে মোসলেমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

Please follow and like us:
0

Related posts

Leave a Comment