নাশকতার ২ মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

ক্রাইম নিউজ সার্ভিসঃ ঢাকার দারুস সালাম থানার নাশকতার দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। দুই অভিযোগপত্রেই খালেদাকে হুকুমের আসামি করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়া হয়েছে।

দারুস সালাম থানার এস আই মো. শহীদুর রহমান ও এস আই আব্দুর রাজ্জাক বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দুটি জমা দেন।

এস আই শহীদ অভিযোগপত্র দেন গতবছর মার্চে গাবতলীতে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটায় দায়ের করা ফৌজদারি দণ্ডবিধির এক মামলায়। এ মামলায় মোট ২৭ জনকে আসামি করেছেন তিনি।

আর গতবছর ফেব্রুয়ারিতে মিরপুর শাহআলী মাজারের কাছে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা অন্য মামলায় অভিযোগপত্র দেন এস আই রাজ্জাক। তিনি আসামি করেছেন ২৪ জনকে।

পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী কমিশনার মিরাশ উদ্দিন জানান, ২৪ জনকে দুই অভিযোগত্রেই আসামি করা হয়েছে। ফলে আসামির সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে মোট ২৭ জনে।

খালেদা ছাড়াও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া, শরফুদ্দিন সফু, চেয়ারপারসনের প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান ও বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সহ-সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু রয়েছেন আসামিদের মধ্যে।

এছাড়া মামুন খান, মো.মাকসুদ, মো. ফারুখ, দোলেয়ার হোসেন, মনি হোসেন, মো. মনা, মো, বাবু, আব্দুর রহিম, মাহবুব হোসেন, মাল হোসেন, রাব্বী সাফায়ত রাব্বী, এইচ এম ইমরান,শ্যামল আহমেদ, তপু দেওয়ান, আব্দুল জব্বার, সরোয়ার আলমকেও আসামি করা হয়েছে।

দুই মামলায় আমান উল্লাহ আমান ও কামাল হোসেন ছাড়া আসামিদের সবাইকে পলাতক দেখিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে অভিযোগপত্রে।

দণ্ডবিধির মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ১৩ জনকে; আর বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ১২ জন রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেবেন বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে গতবছরের শুরুতে টানা তিন মাসের অবরোধ-হরতালের মধ্যে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে এই দুটি মামলা করে পুলিশ।

২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মিরপুর শাহ আলী মাজারের কাছে হযরত আলী কলা মার্কেটের বিপরীত দিকে আনন্দ সুপার পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় দারুস সালাম থানার এসআই মো. মনির হোসেন বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ‘অনেককে’ অজ্ঞাতপরিচয় দেখিয়ে মামলা করেন।

২০১৫ সালের ৩ মার্চ গাবতলীর বিআরটিসি বাসস্টান্ড সংলগ্ন গ্রেট ওয়ালের মাঠে রাখা একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।

ওই ঘটনায় দারুস সালাম থানার এসআই শাহ আলম ফৌজদারি দণ্ডবিধির আওতায় ২০ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও অনেককে অজ্ঞাতপরিচয় দেখিয়ে মামলা করেন।

আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, অভিযোগপত্র দুটি মহানগর হাকিম এমদাদুল হকের আদালতে উপস্থাপন করা হলে তিনি সেগুলোতে ‘গৃহীত’ লিখে সই করেন।

বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাটি ৩১ মে এবং দণ্ডবিধির মামলাটি আগামি ১ জুন আদালতে উঠবে বলে এসআই জাহাঙ্গীর জানান।

গুলশানে নিজের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে গতবছর ৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়া লাগাতার অবরোধ ডাকার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল বোমা হামলা চালিয়ে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ শুরু হয়।

সে সময় যাত্রাবাড়ীর কাঠের পুল এলাকায় বাসে পেট্রোল বোমা ছোড়া এবং গুলশানে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে হরতাল-অবরোধবিরোধী মিছিলে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের তরা তিনটি মামলায় খালেদাকে হুকুমের আসামি করে মামলা হয়।

এর মধ্যে যাত্রাবাড়ীর দুই মামলায় ইতোমধ্যে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। তিন মামলাতেই খালেদা জামিনে রয়েছেন।

Please follow and like us:
0

Related posts

Leave a Comment