বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী হত্যা মামলার পুনর্বিচারের শুনানি শুরু

ফেলানী হত্যা

ক্রাইম নিউজ সার্ভিসঃ তিন মাস পাঁচ দিন পর আবার শুরু হয়েছে বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যা মামলার পুনর্বিচারের শুনানি। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের বিশেষ আদালতে সোনারী ছাউনীতে বিএসএফের আধিকারিক সিপি ত্রিবেদীর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এর আগে ৪ মাস মুলতবি থাকার পর গত ২৫ মার্চ পুনর্বিচার শুরু হলেও বিএসএফের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অসুস্থ থাকায় ৩০ জুন পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়েছিল।

বিএসএফের কোচবিহার সেক্টরের ডিআইজি দলজিত্ সিং জানান, বিচারকাজ শুরু হয়েছে। বিএসএফ সদর দপ্তরে কোনো সংবাদকর্মীকেও বিচারকাজ দেখার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

ফেলানী হত্যা
বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যা

এদিকে, বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়েছে, জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্ট বা জিএসএফসি নামের এই বিচারব্যবস্থা সেনাবাহিনীর কোর্ট মার্শালের সমতুল্য। এতে পাঁচজন বিচারক বিচারপ্রক্রিয়া চালাবেন। বিএসএফের নিজস্ব আইন অনুযায়ী বিচার চললেও দেশটির দণ্ডবিধিতে শাস্তির যে বিধান আছে, সে রকম বা তার থেকেও বেশি শাস্তি দেওয়া যেতে পারে।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্ত হয়ে বাবার সঙ্গে বাংলাদেশে ঢোকার সময় বিএসএফ সদস্য কনস্টেবল অমিয় ঘোষের গুলিতে প্রাণ হারায় কিশোরী ফেলানী। কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবি প্রকাশের পর সারাবিশ্বে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। এরপর বিএসএফ এই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু করে।

বিএসএফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অমিয় ঘোষ তাঁর ৫ দশমিক ৫৬ মিলিমিটার ইনসাস রাইফেল থেকে গুলি চালিয়েছিলেন। বিচারের শুরুতেই অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে বিচারকেরা জিজ্ঞাসা করেন, তিনি দোষ স্বীকার করছেন কি না, যাকে আইনি পরিভাষায় বলা হয়‘গিলটি প্লিড’ করছেন কি না। কিন্তু অমিয় ঘোষ দোষ স্বীকার করেননি। আদালতকে তিনি আইনি ভাষায় বলেছেন, ‘নট গিলটি’। ফেলানীকে হত্যার দায়ে বিএসএফের অভিযুক্ত কনস্টেবল অমিয় ঘোষ ঘটনার পর থেকেই ক্লোজ অ্যারেস্ট রয়েছেন। অর্থাত্ তিনি তাঁর ইউনিটের ১৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের এলাকার মধ্যেই সীমিতভাবে ঘোরাফেরা করতে পারেন। অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা (অনিচ্ছাকৃত খুন) এবং বিএসএফ আইনের ১৪৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

কিন্তু ২০১৩ সালে বিএসএফের বিশেষ আদালতের রায়ে বাহিনীর অভিযুক্ত সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। তবে তাতে ফেলানীর পরিবারসহ বিজিবি অসন্তোষ জানালে বিএসএফ পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নেয়।

২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয় এই বিচারের শুনানি। কুড়িগ্রামের নুরুল ইসলাম নুরু পুনর্বিচারে শুনানিতে ভারতে গিয়ে বিএসএফের আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দিয়ে এসেছেন।

এই সংক্রান্ত আরো নিউজ

One Thought to “বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী হত্যা মামলার পুনর্বিচারের শুনানি শুরু”

  1. milan sarkar

    Very bad

Leave a Comment