সাভার নয়ারহাটে এতিমদের বাড়ীঘর গুড়িয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা

ক্রাইম নিউজ সার্ভিজ,সাভার: সাভার নয়ারহাটে পিতামাতা হারা এতিমদের বাড়ীঘর দোকানপাট গুড়িয়ে দিয়ে নতুন বাড়ী তৈরীর পাঁয়তারা করছে সন্ত্রাসীরা। গত মঙ্গলবার নয়ারহাট কহিনুল মিলের পশ্চিম পাশে ধনিয়া এলাকায় স্থানীয় ভুমিদস্যুদের সহায়তায় জনৈক সিরাজুল ইসলাম এর ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা প্রয়াত হারুন অর রশিদের বসতবাড়ী ভেঙ্গে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। পরদিন বুধবার সকালে সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়ায় উক্তস্থানে বাড়ী নির্মাণের চেষ্টা চালায়। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকাবাসী গনমাধ্যমকর্মী এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে জমি জবরদখলও বাড়ী নির্মাণে বিরত থাকে সন্ত্রাসীরা।

তবে ভুমিদস্যূ সিরাজুল বিপুল পরিমান নির্মাণ সামগ্রী জড়ো করে রেখেছে।

অন্যদিকে একমাত্র বসতভিটি হারা হারুন অর রাশিদের এতিম পুত্র আল আমিন, তানভীর আলম ও কন্যা সুইটি আক্তার ব্যাপক ক্ষতির মুখে থানা পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে, বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। সন্ত্রাসীদের হামলার শংকার মুখে সর্বশেষ আশ্রয়স্থল জবরদখল ঠেকাতে জীবন বাজী রেখে জমি পাহারা দিচ্ছে অসহায় আল আমিন গং।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার নয়ারহাট ধনিয়া মৌজাস্থিত এস,এস ৩৮ নং খতিয়ান এর ৪৭,৫০ ও ৫১ দাগের ৫৪১ অযুতাংশ জমি ২৮ এপ্রিল ১৯৯৯ ইং সালে ৬২১০ নং দলিলমূলে প্রয়াত হারুন অর রশিদ ক্রয় সুত্রে মালিকানা লাভ করে ভোগদখলে নিয়ত থাকেন। অতঃপর ভোগদখলরত অবস্থায় বিগত ২০০৩ সালে দুই পুত্র,১ কন্যা ও স্ত্রী রাখিয়া মৃত্যুবরন করে। ২০০৭ সালে হারুন অর রশিদের স্ত্রীও মৃত্যুবরন করে। মাতা পিতা হারিয়ে এতিম হওয়া আল আমিন, তানভীর আলম সুজন ও কন্যা সুইটি আক্তার পৈত্রিক জমিতে ঘরবাড়ী ও দোকানপাট তৈরী করে ২০১০ সালে। বসবাসরত অবস্থায় সম্প্রতি সিরাজুল ইসলাম পিতা হেছেম উদ্দিন সাং ২৪/১ ডগরমোড়া, সাভার একটি এওয়াজবদল নামা দলিল দেখিয়ে এই জমিটির মালিকানা দাবি করে।

সন্ত্রাসী হামলায় বাড়ী ঘর হাঁরিয়ে খোলা আকাশে অবস্থান নেওয়া আল আমিন জানান, সিরাজুল গং প্রথমে একখানা এওয়াজ বদল নামা দলিলে তার কন্যা সেলিনা আক্তার জমিটির মালিক বলে দাবি করে। এবং তাদের দখলে থাকা বাড়ীঘর ভেঙ্গে জমি খালি করে দিতে বলে। ১৬ বছর যাবত ভোগদখলে থাকা আলামিন সিরাজুলের দলিল চ্যালেঞ্জ করলে, সিরাজুল ২২ শে ফেব্রুয়ারী ২০০২ সালের ৩৪৭৭ নম্বর এওয়াজ বদল দলিল যাহাতে ২ শতাংশ জমির বিনিময়ে তর্কিত ভুমি দেখায়। উক্ত দলিলে সেলিনা আক্তার ও হারুনুর রশিদের নিজ নিজ সহি দেখানো হয়। পরে এ বিষয়ে এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে বসে এওয়াজ বদলকৃত জমি মৌজা দাগ,খতিয়ান কোথায় জানতে চাইলে সিরাজুল একই দিনে সম্পাদিত ২০০২ সালের ৩৫০৬ নং সাফকবলা অপর একটি দলিল দেখিয়ে বলে আল আমিনের পিতা হারুনুর রশিদ উক্ত ২ শতাংশ জমিও সেলিনা আক্তার নিকট বিক্রয় করে দিয়েছে।

দলিল দুইটি সন্দেহ হলে আলামিন গং বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে সিরাজুল গং দের আসামী করে ১৮৫/১৫ নং স্বত্ব ঘোষনা মামলা দায়ের করে। মামলার বিষয়টি জানতে পেরে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সিরাজুল গং, বিভিন্ন ফন্দি ফিকিরের পর জমিতে দখল স্বত্ব না থাকার পরও আইনী প্যাচের ফাঁকে জমিতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে। অতপর কৌশলে আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করলে তার অপকর্ম গোমর ফাঁস হয়ে যায়। এরপর থেকে যেকোন মুল্যে জমিতে দখল পেতে মরিয়া হয়ে উঠে সিরাজুল গং।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,প্রভাবশালী ব্যাক্তিবর্গ থেকে শুরু করে ভুমিদস্যু,নেতা পাতিনেতা ও মাস্তান ও সর্বশেষ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নেয়। এরপর নেমে পদে জবরদখল মিশনে,শুরুতে গত ৪ সেপ্টেম্বর আলামিন ও সুজনকে না পেয়ে ক্ষমতার দাঁপটে আশুলিয়া থানা পুলিশের সহায়তায় অন্যায় ভাবে আলামিনের ছোট বোন সুইটি (১৪)কে সহ আলামিনের আত্নীয়স্বজনদের ধরে থানায় নিয়ে যায়। রাত আনুমনিক ১০টার সময় মুচলেকার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেয়।
আলামিনদের অনুপস্থিতির সুযোগে ওই রাতেই এক দফা বাড়ীঘর ভাংচুর করে সিরাজুলে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা, এতে নেতৃত্ব দেয় স্থানীয় মজনু ও সিরাজুলের মেয়ের জামাতা রফিকুল ইসলাম। পাশাপাশি ধূর্ত সিরাজুল হয়রানীর উদ্দেশ্যে আলামিন গংকে বিবাদী করে জবর দখলের পাঁয়তারা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে অভিযোগ তুলে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের নিকট প্রতিকার চেয়ে দরখাস্ত করে।

ঘরহারা হয়ে বর্তমানে আত্নীয়ের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে আলামিন গং। বর্তমানে আলামিন সুজন পৈত্রিক ভিটিমাটি একমাত্র সম্বল জমিটি রক্ষায় একদিকে যেমন সন্ত্রাসী হামলা মুখে, অন্যদিকে মিথ্যা অভিযোগে পুলিশী হয়রানীর আশংকায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এদিকে অন্যের বাড়ীঘর ভাংচুর, পুলিশী হয়রানী, জমি জবরদখলের অভিযোগ প্রসংঙ্গে সিরাজুলের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, প্রয়াত হারুন অর রশিদ ধনিয়া মৌজার ৫.৪১ শতাংশ জমির বিনিময়ে তার মেয়ে সেলিমা আক্তারের ধামসোনা মৌজার ২ শতাংশ জমি নিয়ে এওয়াজ বদল দলিল করে। পরে ওই ২ শতাংশ জমিও সাবকবলা দলিলে বিক্রয় করে হারুন। ৫.৪১ শতাংশ জমির মালিকানা পেতে কেন একই দিনে আগে ও পরে এওয়াজ বদল ও সাবকবলা ২টি দলিল করা হয়েছে? এর উত্তরে সিরাজুল বলেন প্রয়োজনবসত দলিল দুইটি করা হয়েছে এতে দোষের কিছু নেই।

এলাকাবাসীর মতে ২০০২ জমি ক্রয় করে এতদিন পর কেন দখল নিতে গেলেন? উত্তরে বলেন মিথ্যা কথা আমার বাউন্ডারী দেয়াল নির্মিত আছে। অথচ মোবাইল ফোন রিসিভ করার পর তর্কিত ভুমি নিয়ে জানতে চাইলে সিরাজুল প্রথমে বলেন, জমির মালিক যিনি তার নাম্বার দিচ্ছি এবিষয়ে তার সাথে কথা বলুন। পরে কৌশলী ভুমিকায় আলাপচায়িতায় সব প্রশ্নেরই উত্তর দেন। বর্তমানে সাভার পৌর স্বরনিকা এলাকার বাসিন্ধা ১৯৭৩ পরবর্তী বিশ্ব ব্যাংকের কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসুচি প্রকল্পে যোগদান করে নিজের পকেট বেশ রিষ্ট পুষ্ট করে নেয় ধামরাই সৌমবারের সিরাজুল ইসলাম।

সব কিছু ম্যানেজ করে অন্যের দখলীয় জমিতে জবরদখলে নামলেও জমি সংক্রান্ত অনেক কিছুই জানেননা বলেও দাবি করেন। অথচ তার অর্থ ও ক্ষমতার দাপটের কারণে ঘর বাড়ী হারিয়ে ব্যাপক ক্ষতির সমুক্ষিন আলামিন গং এর অভিযোগতো দুরের কথা একটি সাধারন ডাইরী পর্যন্ত আমলে নেয়নি আশুলিয়া থানায় পুলিশ। কি করুন বাস্তবতা? নির্যাতন জুলুমের শিকার ভুক্তভুগি আইন ভঙ্গকারীদের বিচার পর্যন্ত চাইতে পারবেনা থানা পুলিশের কাছে।

অন্যদিকে জমির দখল পেতে কিশোরী সুইটিকে বিনা অপরাধে ৬ ঘন্টা আটক রাখা হয় থানা হেফাজতে। বাস্তবতার সমুক্ষিণ সুইটির ভাই শিক্ষার্থী তানভির আলম সুজনের জিজ্ঞাসা ? বাংলাদেশ নামক রাষ্টের ইতিহাস,বই, পুস্তক আর সংবিধানের এ কোন গনতন্ত্রের কথা আমরা পড়ে আসছি ? এর উত্তর হয়তো অজানাই থেকে যাবে সুজনের, ছাত্র জীবনে অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে থানা পুলিশ আর আদালতের চৌকাঠ দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে।

এমতঃবন্থায় প্রভাবশালী সিরাজুলের আগ্রাসনের মুখে জমি জবরদখল ঠেকাতে ও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচতে সরকারের উর্দ্ধতণ কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে অসহায় সহোদর আলামিন সুজনরা ।

এই সংক্রান্ত আরো নিউজ

Leave a Comment