বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ৫৪টি মামলার অনুমোদন

বেসিক ব্যাংক

ক্রাইম নিউজ সার্ভিসঃ প্রায় চার বছর অনুসন্ধান শেষে বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির কেলেঙ্কারির ঘটনায় মোট ৫৪টি মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

দুদক চেয়ারম্যান এম বদিউজ্জামান জানিয়েছেন, “এ বিষয়ে একটি বিশদ ও দীর্ঘ অনুসন্ধান হয়েছে। অনুসন্ধান প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ইতোমধ্যে ৫৪টি মামলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।”

ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২৬ কর্মকর্তা এবং বাইরের আরও ৭৬ জন এসব মামলায় আসামি হচ্ছেন বলে দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মামলার সংখ্যা আরও বাড়তে জানিয়ে পারে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের কাছে আরও কিছু কাগজপত্র এসেছে। এগুলোর প্রাথমিক পর্যালোচনা শেষে মনে হচ্ছে মামলার সংখ্যা আরও ২-৩টি বাড়তে পারে।”

বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতি-অনিয়ম তদন্তে সংসদীয় কমিটির অসন্তোষের পর দুদক এই মামলার কথা জানাল।

বেসিক ব্যাংকের দিলকুশা, গুলশান ও শান্তিনগর শাখা থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা তুলে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

অনিয়মের ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপে গত বছর অপসারিত হন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলাম। ব্যাংকের আট কর্মকর্তাকেও বরখাস্ত করা হয়। এরপর ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু।

দুদকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সাবেক এমডি ফখরুল ইসলাম, সাজেদুর রহমান ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত এমডি মঞ্জুর মোর্শেদসহ কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তাকে ৫৪টি মামলাতেই আসামি করা হচ্ছে।”

বেসিক ব্যাংকে দুর্নীতির অভিযোগ উঠার পর ২০১০ সাল থেকে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দুদকের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম ছিলেন প্রাথমিক ভাবে এই অনুসন্ধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

প্রাথমিক অনুসন্ধানেই ‘ব্যাপক মাত্রায়’ দুর্নীতির তথ্য পাওয়ায় পরে বিশদ অনুসন্ধানের জন্য ২০১১ সালে চার সদস্যের একটি টিম গঠন করে কমিশন, যার প্রধান ছিলেন দুদকের উপ পরিচালক মীর জয়নুল আবেদিন শিবলী।

পরে ২০১২ সালে ওই টিম ভেঙে জয়নুল আবেদিন শিবলীকে হল-মার্ক দুর্নীতি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়, বেসিক ব্যাংক দুর্নীতি অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

এই সংক্রান্ত আরো নিউজ

Leave a Comment