ছাত্রলীগ নেতা নিহতের ঘটনায় র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক প্রত্যাহার

র‍্যাব

ক্রাইম নিউজ সার্ভিসঃ র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে রাজধানীর হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম মাসুদ রানাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার রাতে তাকে প্রত্যাহার করে র‌্যাব সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

র‌্যাব’র লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, র‌্যাব’র সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আরজুর মৃত্যু হয়েছে। তারপরও যেহেতু পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করছে এবং আদালতে মামলা দায়ের করেছে এজন্য সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে র‌্যাব-২ এর অধিনায়ককে র‌্যাব সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত ১৬ই আগস্ট রাজধানীর হাজারীবাগে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে রাজা নামে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়া ওই হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন দাবি করে রাজার বোন রেশমা বেগম মামলা করলে ওই রাতেই আরজুকে আটক করে র‌্যাব। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তার মৃত্যু হয় বলে র‌্যাব‘র পক্ষ থেকে জানানো হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, মামলা হওয়ার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাজারীবাগ পার্কের পানির পাম্পের কাছ থেকে আরজুকে আটক করেন তারা। পরে তাকে নিয়ে বাকি আসামিদের ধরতে অভিযানে নামেন র‌্যাব সদস্যরা। রাত সাড়ে ৩টার দিকে বেড়িবাঁধের বাড়ুইবাড়ী এলাকায় মান্নান প্রিন্সিপালের বাড়ির সামনে ওঁৎ পেতে থাকা আরজুর সহযোগীরা র‌্যাব সদস্যদের দেখে গুলি শুরু করে। আত্মরক্ষার জন্য র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে আরজুর গায়ে গুলি লাগে। পরে গুলিবিদ্ধ আরজুকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গত ১৯শে অগাস্ট আরজুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগের নেতারা। বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটিকে ‘কল্পকাহিনী’ আখ্যায়িত করে জড়িত র‌্যাব সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা। স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপসও সাংবাদিকদের সামনে ওই ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলেন।

গত রোববার আরজুকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে র‌্যাব-২ এর অধিনায়কসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেন তার ভাই মাসুদ রানা। আদালতে দাখিল করা আরজিতে র‌্যাব-এর উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) সাহেদুর রহমান, পরিদর্শক মো. ওয়াহিদ ও র‌্যাব-এর সোর্স রতনকেও আসামি করা হয়। এ অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে মঙ্গলবার আদেশ দেবেন ঢাকার মহানগর হাকিম শাহরিয়ার মোহাম্মদ আদনান।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করে আসছেন। সম্প্রতি ছাত্রলীগ নেতার মাগফিরাত কামনায় মিলাদ মাহফিলে তাপস বলেন, বিএনপি-জামায়াতের তৈরি র‌্যাব দিয়ে এ সরকার চলতে পারে না। তিনি ওই ক্রসফায়ারের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।

Please follow and like us:
0

Related posts

Leave a Comment