টাকা ভাগাভাগি নিয়ে আ.লীগ নেতাকে ডেকে দিয়ে দুপায়ে গুলি

ক্রাইম নিউজ সার্ভিসঃ মাদক, চাঁদাবাজি ও ময়লার টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বুধবার গুলিবিদ্ধ হন। ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের নেতা আবদুল বাসিত খানের উপস্থিতিতে তাঁর লোকেরা তাঁকে গুলি করেছে। চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম বলেনি পুলিশ। আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল বাসিত আসামি কি না, পুলিশ জানায়নি।

আবদুল বাসিত একই ওয়ার্ডের দলের সহসভাপতি।

মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান বলেন, তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম বলা যাচ্ছে না। যেহেতু কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে, সেহেতু কেউ সন্দেহের বাইরে নয়।

তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শফিকুলের চাচাতো ভাই আবু বকর সিদ্দিক বলেন, গতকাল রাতে শফিকুল ইসলাম নিজেই বাদী হয়ে মুগদা থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আবদুল বাসিত, স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা মামুনসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

আবু বকর সিদ্দিক আরও বলেন, তাঁর ভাইয়ের আজ বেলা একটার দিকে অস্ত্রোপচার হবে। তাঁর চার ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যরা রক্তের ব্যবস্থা করছেন। দুই পায়ের গুলি বের করার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা বোঝা যাবে বলে তিনি জানান।

পুলিশ সূত্র জানায়, রাজধানীর মানিকনগর বিশ্বরোডের মিয়াজান লেনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের কার্যালয় অবস্থিত। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার পর আওয়ামী লীগের নেতা শফিকুলকে ওই কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ে রাত ১১টার দিকে কার্যালয়ে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে শফিকুলের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ১৫-২০ জন তাঁকে ও তাঁর বন্ধু আশরাফ আলী ওরফে বাবুকে মারধর করতে থাকেন। এ সময় দুই যুবক দুটি পিস্তল দিয়ে শফিকুলের দুই পায়ে চারটি গুলি করেন। পরে আশরাফ তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

শফিকুলের অভিযোগ, ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাসিত কথা আছে বলে দুজন লোক পাঠিয়ে বাসা থেকে তাঁকে কার্যালয়ে নিয়ে যান। এ সময় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাঁর লোকদের কর্মকাণ্ডে বাধা দিতে নিষেধ করেন। কাউন্সিলর তাঁকে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার টাকার ভাগ দেওয়ারও প্রস্তাব দেন। তিনি এর প্রতিবাদ করায় রাসেল ও মামুন পিস্তল দিয়ে তাঁর দুই পায়ে চারটি গুলি করেন। মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসিকে) ফোন করলেও তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাননি।

শফিকুল বলেন, গত ২৮ এপ্রিল সিটি নির্বাচনে বাসিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। নিজের লোকদের দিয়ে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি করতে তিনি তিনটি দল গঠন করেন।

Please follow and like us:
0

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

SuperWebTricks Loading...