আবার শাপলা চত্বরে জড়ো হওয়ার হুমকি হেফাজতের

ভোলায় কথিত ‘ধর্ম অবমাননা’ ও ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনার বিচারের দাবিতে ডাকা প্রতিবাদ সমাবেশে কঠোর ভাষায় সরকারের সমালোচনা করেছে হেফাজতে ইসলাম। এ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে দায়ীদের বিচার করতে না পারলে সরকারকে ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজত নেতারা। একইসঙ্গে এ ঘটনার বিচার আদায়ে প্রয়োজনে আবারও মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এ প্রতিবাদ সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম।

ঢাকা মহানগর হেফাজত নেতারা জোহরের নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে সমবেত হলে তাদের সমাবেশের কারণে দৈনিক বাংলা মোড় থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সমাবেশে হেফাজতের নেতা-কর্মীরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে কথিত ‘কটূক্তিকারী’ ও ভোলার সংঘর্ষের বিষয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে ঢাকা মহানগর হেফাজতের সভাপতি মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, এ বেয়াদবি দেশের তৌহিদি জনতা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। যে সরকার আল্লাহ পাকের হাবিবের ইজ্জত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনও অধিকার নেই। তাদের ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে অনতিবিলম্বে এ দেশের শান্তিপ্রিয় নিরপেক্ষ লোকের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হোক।

ঢাকা মহানগর হেফাজতের সভাপতি মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী একইসঙ্গে ২০ দলীয় জোটভুক্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব।  সমাবেশে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। কোনও মুসলমান অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়ে আঘাত করেননি। আমরা সম্প্রীতিকে রক্ষা করতে চাই। তবে নবী (সা.) এর বিষয়ে বেয়াদবি হবে এটাকে মেনে নেওয়া হবে না। যে সরকার নবী (সা.) এর মর্যাদা রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হবে, সে সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনও অধিকার নেই।

এসময় ভোলায় ‘তৌহিদি জনতার’ বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার ও গ্রেফতারদের মুক্তি দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে ওসি-এসপিসহ প্রশাসনের যারা এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানান তিনি।

এসময় সরকারের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় তিনি বলেন, আপনারা (সরকার) যদি এসব করতে ব্যর্থ হন, আমরা বসে থাকবো না। আঙুল চুষবো না।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করেছেন এমন অভিযোগ করে এসব চুক্তি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী। তিনি বলেন, ‘এসব চুক্তি প্রত্যাহার করুন। তাতে যদি ব্যর্থ হন, তাহলে আপনার ক্ষমতায় থাকার কোনও অধিকার নেই।’

মাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজত নেতা মাওলানা মাহফুযুল হক বলেন,  আমরা হেফাজতে ইসলামসহ দেশের তৌহিদি জনতা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে প্রত্যাখান করছি।

তিনি আরও বলেন, যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের অতিসত্ত্বর বিচার করতে হবে। ভোলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৪-৫ হাজার মানুষকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এ মামলা অতিসত্ত্বর প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনের মাধ্যমে শুধু মামলা প্রত্যাহার নয়, যে সরকার মামলা প্রত্যাহার করবে না, সে সরকারকে এ দেশে থেকে উৎখাত করা হবে।

ভোলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান হেফাজত নেতা মুফতি ফয়জুল্লাহ। তিনি বলেন, ভোলার পুলিশ সুপার ও বোরহানউদ্দিন থানার ওসিকে প্রত্যাহার করে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *