সরকারি চাকুরেদের গ্রেপ্তারে অনুমতির বিধান নিয়ে হাই কোর্টের রুল

জনস্বার্থে করা এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের বেঞ্চ সোমবার এ রুল জারি করে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সচিব, জনপ্রশাসন ও আইন সচিব ও জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রুলে সরকারি কর্মচারিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে প্রণীত ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪১(১) ধারা কেন বেআইনি ও বাতিল এবং সংবিধানের ২৬ (১) (২), ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ-এইচআরপিবির পক্ষে গত ১৪ অক্টোবর আইনটির ৪১(১) ধারা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারোয়ার আহাদ চৌধুরী, এখলাছ উদ্দিন ভূইয়া ও মাহবুবুল ইসলাম।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রিপন বাড়ৈ ও সঞ্জয় মণ্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।

২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর সরকারি চাকরি আইনের গেজেট জারি হয়। এরপর গত ২৬ সেপ্টেম্বর এক গেজেটে বলা হয় ১ অক্টোবর থেকে এ আইন কার‌্যকর হবে।

নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অভিযোগে দায়ের করা ফৌজদারি মামলায় আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের আগে ওই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করতে হলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, “সরকারি চাকরি আইন ৪১(১) ধারার মত একই ধরণের বিশেষ সুবিধা বা বৈষম্যমূলক বিধান রেখে ২০১৩ সালে দুদক আইনের ৩২(ক) ধারা প্রণয়ন করা হয়েছিল।

“পরে এর বিরুদ্ধে জনস্বার্থে রিট করলে আদালত আইনটিকে বৈষম্যমূলক ঘোষণা করে বাতিল করেছিলেন আদালত। ঠিক একইভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিশেষ সুবিধা বা সুযোগ দিয়ে গত বছর প্রণীত সরকারি চাকরি আইনের ৪১(১) ধারাটিও আদালতের রায়ের পরিপন্থী।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *