অভিযানে জব্দ ইলিশ যায় কোথায়?

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। অভিযানে কাউকে ইলিশ ধরা, মজুত কিংবা কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তাৎক্ষণিক কারাদণ্ড দেন। বিকল্পে জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেনে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময়ের মধ্যে  জব্দ করা ইলিশ স্থানীয় মাদ্রাসা, এতিমখানা, বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্র ও বৃদ্ধাশ্রমে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এছাড়া, কখনও কখনও জব্দ করা মাছে কেরোসিন ঢেলে খাওয়ার ‘অযোগ্য’ করে মাটিতে পুতে ফেলারও রেওয়াজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মা ইলিশরক্ষায় যখন নদীতে ইলিশ ধরার ক্ষেত্রে সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকে, তখন সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে কিছু অসাধু জেলে নদীতে ইলিশ মাছ ধরে। ওইসব মাছ সূর্যোদয়ের আগে আগে তারা গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করেন। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব মাছ ধরা হয় বলে মোটামুটি কম মূল্যেই বিক্রি করে চলে যান জেলেরা।

প্রসঙ্গত, ০৯ অক্টোবর (বুধবার) ভোর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য দেশের ৬টি ইলিশ অভয়ারণ্যসহ ইলিশ অধ্যুষিত নদ-নদীতে ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। একইসঙ্গে এই ২২ দিন ইলিশ মাছ পরিবহন মজুত, সংরক্ষণ ও বিক্রিও বন্ধ রয়েছে। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে স্বাচ্ছন্দ্যে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতেই সরকার এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ডিম ছাড়তে সক্ষম এমন পরিণত ইলিশ এই সময় ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে মিঠাপানির নদীতে আসে। ডিম ছাড়ার এই সময়কে নির্বিঘ্ন করতেই সরকার ওই সময় সব ধরনের মাছ শিকারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই বছর এই ২২দিনে মোট ২টি পূর্ণিমা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একটি পূর্নিমা গেছে ১৩ অক্টোবর, পরবর্তী পূর্ণিমা পাওয়া যাবে ২৮ অক্টোবর।

এই ২২দিন ইলিশের জন্য দেশের ৬টি অভয়াশ্রমসহ উল্লেখযোগ্য নদীতে সরকার ইলিশ মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিশেধাজ্ঞা জারি করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবছর আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে পড়ে ১৫ দিন হচ্ছে ইলিশের ডিম ছাড়ার প্রকৃত সময়। প্রতিবছর এই সময়ে নদীতে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। কিন্তু এরপরও এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনেকেই মাছ ধরে। অবৈধভাবে এই মাছ ধরাকে ঠেকাতে জেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ নদীতে অভিযান চালায়। এসব অভিযানের প্রচুর ইলিশ জব্দ করা হয়।কিন্তু জব্দ করা ইলিশ কোথায় যায়? এই নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের  বলেন, ‘শুধু জেলা প্রশাসনই নয়, মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড এমনকি থানা পুলিশও অভিযান চালায়। যদিও আমি এসব সংস্থাকে যৌথভাবে অভিযান চালাতে বলেছি। এসব অভিযানে জব্দ করা জাল নদীর পাড়ে এনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। আর ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় দিয়ে দেওয়া হয়।’

উল্লেখ্য, ইলিশের জন্য সরকারের ঘোষণা করা মোট ছয়টি অভয়াশ্রম হচ্ছে—ভোলার চর ইলিশার মদনপুর থেকে চরপিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার, ভোলার ভেদুরিয়া থেকে চররুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্ধারমানিক নদীর ৪০ কিলোমিটার, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনার ১০০ কিলোমিটার, শরীয়তপুরের নড়িয়া থেকে ভেদরগঞ্জ পর্যন্ত পদ্মার ২০ কিলোমিটার, বরিশাল সদরের কালাবদর নদীর হবিনগর পয়েন্ট থেকে মেহেন্দীগঞ্জের বামনীরচর পয়েন্ট পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার, মেহেন্দীগঞ্জের গজারিয়া নদীর হাটপয়েন্ট থেকে হিজলা লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার এবং হিজলায় মেঘনার মৌলভীরহাট পয়েন্ট থেকে মেহেন্দীগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনার দক্ষিণ-পশ্চিম জাঙ্গালিয়া পয়েন্ট পর্যন্ত মোট ২৬ কিলোমিটার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *